কয়রায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার দাবি

0

খুলনা ব্যুরো ॥ ঘূর্ণিঝড় আইলা ও আম্পান বিধ্বস্ত খুলনার কয়রা উপজেলায় প্রশস্ত ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন জানানো হয়েছে। বানভাসি কয়রাবাসীর ব্যানারে রবিবার দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ৫ দফা সুপারিশ সম্বলিত এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানান বিধ্বস্ত ওই জনপদের তিগ্রস্ত মানুষেরা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে ইকো-ট্যুরিজম এর সম্প্রসারণ এর ল্েয খুলনার পাইকগাছার সোলাদানা থেকে গড়ুইখালী ও গিলাবাড়ি হয়ে কয়রার কাঠকাটা লঞ্চঘাট পর্যন্ত সড়কটি মহাসড়কের মাস্টার প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কয়রা উপজেলার আংটিহারার সাথে নৌ যোগাযোগ শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ পর্যন্ত বর্ধিত করা, আংটিহারাতে একটি ডকইয়ার্ড নির্মাণ করা, খুলনা শিপইয়ার্ডের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কয়রার আংটিহারাতে পরিকল্পিতভাবে জাহাজ নির্মাণ বা মেরামত শিল্পের বিকাশ ঘটানো। শ্যামনগর এবং কয়রাকে একটি মাস্টার প্ল্যানের আওতায় এনে প্রস্তাবিত টেকসই বেড়িবাঁধ কমপে ৪০-৪৫ ফুট প্রশস্ত করা, বাঁধের ভেতরে এবং বাইরে সামাজিক বনায়ন এবং কয়রা উপজেলায় ২১টি স্লুইস গেট নির্মাণ ও সংস্কারপূর্বক বর্ষাকালের মিঠাপানির সংরণ এবং লবণাক্ত পানি প্রবেশ সীমিত বা রোধকরণ। স্মারকলিপিতে উপকূলবর্তী কয়রা ও শ্যামনগর উপজেলার একটি মেগাপ্রকল্প গ্রহণপূর্বক বাস্তবায়নের দাবিও জানানো হয়। বলা হয়, বর্তমানে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে রাস্তায় ও আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে। গৃহহীন হওয়া পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, খাদ্য সহায়তা এবং সুপেয় পানির সরবারহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করা হয়। ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে ভেঙে পড়ে কয়রা উপজেলার অর্থনীতি। সেসব তি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই গত ২০ মে আঘাত হানে সুপার সাইকোন আম্পান। এতে কয়রা উপজেলার ১২১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ২১টি স্থান ভেঙে উপজেলার ৬৮টি গ্রামের ৫১ হাজার ঘরবাড়ি, ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল, ১৫ হাজার গবাদি পশু এবং ৫ হাজার মৎস্য ঘেরসহ উপজেলার ১ লাখ ৮২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।