রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্তে ওয়ার্কার্স পার্টির ক্ষোভ

লোকসমাজ ডেস্ক॥ সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্তে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। রোববার (২৮ জুন) এক বিবৃতিতে তারা এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী ওয়াদায় বন্ধ পাটকলগুলো খুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় এসে আদমজী ব্যতীত কয়েকটি বন্ধ কারখানা চালু করেছিলেন। কিন্তু বিশ্ব ব্যাংকের দোসর অর্থমন্ত্রী, বর্তমান পাটমন্ত্রী ও কতিপয় আমলার কারসাজিতে এই প্রতিশ্রুতি এগিয়ে নেয়া যায়নি। তারা ষড়যন্ত্র করে লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বন্ধ করার পায়তারা করছে। এটা বিএনপি-জামায়াত সরকারের গৃহীত নীতিমালারই অনুকরণ মাত্র।
বিবৃতিতে তারা বলেন, পাটকল পরিচালনা কেন্দ্র বিজেএমসি’র মাথাভারী প্রশাসন, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা যারা, পাট ক্রয়ে দুর্নীতি-অনিয়ম করেছে, যারা মৌসুমে পাট সরবরাহ করেনি, যারা উৎপাদিত পাটপণ্য বিপণনে কোনো ভূমিকা রাখেনি, যাদের কারণে ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্প লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হলো, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে পাটকল বন্ধ করে কথিত গোল্ডেন হ্যান্ডসেক দ্বারা শ্রমিকদের বিদায় করা অমূলক। তারা বলেন, করোনার এই মহামারির সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা ও শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করার ঘটনা ব্যক্তি মালিকানা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করবে এবং একইভাবে তারা তিনগুণ শ্রমিক ছাঁটাই করবে। যা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিবৃতিতে তারা বলেন, বাংলাদেশের অভ্যুদয়, সংগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পাট চাষ, পাটশিল্প এবং পাটজাত দ্রব্য ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ৫০ লক্ষ পাট চাষি, পাট শ্রমিক, পাট ব্যবসায়ীসহ প্রায় ৩ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাটশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। এ অবস্থায় পাটকল বন্ধ করার আজগুবি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে পাটকলের পুরোনো যন্ত্রাংশ বাতিল করে উন্নত প্রযুক্তির আধুনিক যন্ত্রাংশ সংযোজন করে পাটকলগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর ও চালু রাখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

ভাগ