ইরাকে বেতন পাচ্ছেন না বাংলাদেশি শ্রমিকরা

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ইরাকে চাকরি পাওয়ার পর সাত বছর রাজিব শেখ বাংলাদেশে তার স্বজনদের কাছে অর্থ পাঠিয়েছেন। কিন্তু এখন নিজের চলার জন্যই তাকে দেশ থেকে টাকা চেয়ে পাঠাতে হয়। একটি বেকারিতে কর্মরত ২৬ বছরের এই তরুণের তিন মাসের বেতন বকেয়া পড়েছে। এমনকি নিয়োগকর্তা তার খাবারের অর্থও বন্ধ করে দিয়েছে। ইরাকে বেতন না পাওয়া হাজার হাজার বিদেশি শ্রমিকদের এক জন রাজিব। এই শ্রমিকরা নীরবে দেশটির অর্থনীতির ধ্বস দেখে যাচ্ছেন। দক্ষিণের তেলসমৃদ্ধ শহর বসরাতে সাত বছর ধরে কাজ করছেন রাজিব। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশে টাকা পাঠাতে অভ্যস্ত ছিলাম। কিন্তু এখন চাচাতো ভাইয়ের কাছে আমাকে টাকা চেয়ে পাঠাতে হয়। আমরা আশা করছি আমাদের কাজে ফিরে যেতে পারব। কেবল আমরাই অনাহারে ভুগছি না, দেশে আমাদের স্বজনরাও খাদ্যকষ্টে আছে।’
করোনার সংক্রমণের কারণে বিশ্বের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে ব্যাপক ধ্বস নেমেছে। ওপেক দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী ইরাকেও এর ধাক্কা পড়েছে। তেলের দাম কমে যাওয়ায় গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে সংকটময় আর্থিক বছর পার করছে ইরাক। গত দশকে লাখ লাখ শ্রমিক দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে ইরাকে ছুটে গিয়েছে। সেখানে তেলের খনি থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁয় কাজ করছে তারা। বাগদাদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যুলার মোহাম্মদ রেজাউল কবির বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ইরাকে ২ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি রেজিস্টার্ড শ্রমিক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘২০ হাজারের বেশি শ্রমিক তাদের চাকরি হারিয়েছে।’ তবে অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকের হিসাব ধরলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি। দূতাবাস কনস্যুলার জানান, এদের মধ্যে ৯ হাজার আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি ও বসরায় ঠিকাদারদের আওতায় কাজ করেন। রেজাউল কবির বলেন, ‘তেলের দাম কমে যাওয়ায় অনেক তেলখনি শ্রমিক ছাঁটাই করছে, এদের অনেকে চূড়ান্ত পাওনাও বুঝিয়ে দেয়নি।’ এএফপি জানিয়েছে, দেশে ফিরে যাওয়ার আশায় অনেক শ্রমিক বাগদাদে বাংলাদেশ দূতাবাসে যাচ্ছেন। তাদের প্রত্যাশা এক্ষেত্রে দূতাবাস তাদের সহযোগিতা করবে। এ ব্যপারে রেজাউল কবির বলেন, ‘আমরা তালিকা তৈরি করছি এবং কোনো ব্যবস্থা করতে পারলেই আমরা লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আমরা তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু এটি ব্যয়বহুল এবং তাদের পাঠাতে আমাদের অনেক ফ্লাইট প্রয়োজন।’

ভাগ