সবজি-মাছ বাজার স্থানান্তরে যশোরের বড় বাজারে মুদি দোকানে বেচাকেনায় ধস

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ সবজি ও মাছ বাজার স্থানান্তরের পর গত দু’মাসে যশোরের বড়বাজারে মুদি, মুরগি, মাংস ও অন্যান্য দোকানে বেচাকেনায় চরম ধস নেমেছে। অনেক দোকানিই তাদের কর্মচারীর বেতন দিয়ে নিজেদের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ছোট ব্যবসায়ীরা দেনার ভারে ইতোমধ্যেই পথে বসেছেন বলে সংশ্ল্ষ্টি সূত্রে জানা গেছে। এসব ব্যবসায়ী তাদের কারবার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবারো স্বস্থানে সবজি ও মাছ বাজার ফিরিয়ে আনার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসমাগম কমানোর লক্ষ্যে যশোর জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ সিদ্ধান্তে বড়বাজারের সবজি এবং মাছ বাজার স্থানান্তর করা হয়। গত ৩০ এপ্রিল থেকে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সবজি এবং টাউন হল ময়দানে মাছ বাজার বসানো হয়। যশোরের বড়বাজারে মূলত সবজি, মাংস, মুরগি ও মুদি দোকান সম্পর্কিত ব্যবসা। অবশ্য এই বাজারে শাড়ি কাপড়, সোনা-রুপা, হার্ডওয়্যার, জুতা-স্যান্ডেল, কসমেটিক্স, ছিটকাপড়ের পাইকারি ও খুচরা বেচাকেনাও হয়। যা মুদি বা কাঁচা পণ্যের সাথে সম্পর্কিত নয়। এই বাজার থেকে দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম মাছ ও সবজি বাজার স্থানান্তর করা হয়। ফলে একই স্থানে গড়ে ওঠা এসব পণ্যের বাজারে ছন্দপতন ঘটে। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতায় বড়বাজারের ক্রেতারা একই জায়গা থেকে সবজি, মাছ, মাংস ও মুদি মালামাল কিনে বাড়ি ফিরতেন। সাধারণত ক্রেতারা এসব পণ্য একই বাজার থেকে কিনতে অভ্যস্ত হন। এখন সবজি ও মাছ বাজার পৃথক হওয়ায় ক্রেতারা আর বড়বাজারে ফিরে মুদি মালামাল কিনতে আসছেন না। হাতের কাছে যেখানে মুদি দোকান পাচ্ছেন সেখান থেকে কিনে নিচ্ছেন। এ কারণে বড়বাজারে ব্যবসায়ে ভাটা পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন আগের থেকে তাদের দোকানে বেচাকেনা অর্ধেকেরও বেশি নিচে নেমে গেছে। বড়বাজার হাটখোলা রোডের ঐতিহ্যবাহী (মুদি ও বকাল মালামাল) ‘নিশি বাবুর দোকান’ এর অন্যতম স্বত্বাধিকারী যদু মুখার্জী গতকাল বৃহস্পতিবার লোকসমাজকে জানান, তাদের দোকানের মুদি মালামাল কেনার সেইসব পরিচিত মুখ খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। এই বাজারের সবজি আর মাছ বাজার স্থানান্তরের পর থেকে বড়বাজারে প্রাণের স্পন্দন কমে গেছে। তিনি বলেন, আগের থেকে বেচাকেনা অর্ধেকেরও বেশি নিচে নেমে এসেছে। তাদের দোকানে এখন বকাল (গাছগাছড়া, মসলা) মালামাল আর বিয়ের সামগ্রী কিনতেই ক্রেতাদের আগমন বহাল আছে। তিনি ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সবজি ও মাছ বাজার আবার বড়বাজারে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি ও কড়া অনুশাসন মেনে বেচাকেনার পক্ষে মত দেন তিনি। বড়বাজারের আরেক মুদি দোকানি জানান, আগে তাদের দোকানে সকাল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকার ওপরে বেচাকেনা হতো। এখন বিধি অনুযায়ী সকাল থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখা যায়। সবজি ও মাছ বাজার স্থানান্তরের পর থেকে বেচাকেনা ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন ও অন্যান্য খরচ দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। এমনকি নিজের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলেও তিনি জানান। একই কথা বলেন বড়বাজারের মুরগি, মাংস ও আলু পেঁয়াজ বিক্রেতারা। মুরগি ব্যবসায়ী বাবু বলেন, মাছ বাজার ও সবজি বাজার স্থানান্তরের আগে প্রতিদিন ২০ হাজার টাকার ওপরে বেচাকেনা হতো। এখন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। কাঠেরপুলের গরুর মাংস বিক্রেতা আব্বাস আলী বলেন, আগে তিনি তার দোকানে প্রতিদিন ২শ থেকে আড়াই শ কেজি মাংস বিক্রি করতেন, মাছ বাজার আর সবজি বাজার চলে যাওয়ার পর থেকে ৬০ থেকে ৭০ কেজি বিক্রিতে নেমে এসেছে। বড়বাজার এইচএমএম রোডের খুচরা ব্যবসায়ী বিকাশ শিকদার বলেন, তার দোকানে আলু, পেঁয়াজ, আদা, রসুন বিক্রি চার ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। আরেক ব্যবসায়ী মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, পুঁজি ভেঙে তার সংসার চালাতে হচ্ছে। এসব ব্যবসায়ী সবজি ও মাছ বাজার আবারও ফিরিয়ে আনার পক্ষে মত দেন।