লোকসমাজ ডেস্ক॥ করোনা ভাইরাসের সঙ্গে সহাবস্থান করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট’র গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, প্রথমদিকে কিছু হটসপটে করোনাভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। তাই সারাদেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনো স্বীকৃত চিকিৎসাপদ্ধতি নেই, কোনো ভ্যাকসিনও আবিষ্কার হয়নি। ভ্যাকসিন কবে নাগাদ পাওয়া যাবে এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা এখনো নিশ্চিন নন। তাই আমাদেরকে এর সঙ্গে সহাবস্থান করতে হবে। আমাদেরকে করোনাভাইরাস সহনশীল হয়ে উঠতে হবে বলে জানান তিনি। ‘করোনাভাইরাস সহনশীল গ্রাম: তৃণমূলের স্বেচ্ছাব্রতীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা’ শীর্ষক এক অনলাইন সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
গতকাল সকাল ১১টায় অনলাইন ফ্লাটফর্ম জুম-এ মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। দি হাঙ্গার প্রজেক্টের উদ্যোগে সংলাপটি পরিচালনা করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস-সহিঞ্চু গ্রাম গড়ে তুলতে প্রায় ১৫০০ গ্রামে হাঙ্গার প্রজেক্টেরর স্বেচ্ছাব্রতীরা কাজ করছেন। তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনাবোধ তৈরি করছেন। সচেতনতামূলক বিভিন্ন কাজ করছেন। আক্রান্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদেরকে আলাদা করা এবং তাদেরকে সাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন। এছাড়া কর্মহীন অসহায় মানুষের তালিকা তৈরি করে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় যুক্ত হতে সাহায্য করছেন। স্বেচ্ছাব্রতীরা নিজেরাও বিত্তবানদের থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা বিতরণের ব্যবস্থা করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, স্বেচ্ছাব্রতীরা বিভিন্ন পাড়ায় করোনা প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তুলেন। তারপর এলাকার মানুষদের মধ্যে মাস্ক, লিফলেট বিতরণ এবং এলাকার বিভিন্ন স্থানে জীবাণুনাশক সেপ্র করেন। এছাড়াও তারা মসজিদের মাইক ব্যবহার করে মানুষদের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানিয়েছেন।
সংলাপে অংশ নিয়ে আইসিডিআর’র উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন বলেন, কমিউনিটিকে সমপৃক্ত করতে না পারলে শুধু পুলিশ দিয়ে করোনা মোকাবিলা করা যাবে না। তিনি হাঙ্গার প্রজেক্টের এই উদ্যোগ শহরাঞ্চলেও বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। ডা. আবু ফয়সলের মতে কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করে স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক এমন উদ্যোগ ব্যতীত করোনাভাইরাসকে কার্যকরভাবে প্রতিহত করা সম্ভব নয়। এই উদ্যোগ সারাদেশে বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন ব্রাকের কর্মকর্তা আকরামুল ইসলাম। সংলাপে আরও অংশ নেন প্রধামন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, ব্রাকের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচে’র পরিচালক ড. মুশতাকে রেজা চৌধুরী, আইসিডিআর’র উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন, জেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সরকার নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সল, ডব্লিএইচও-এর আঞ্চলিক পরিচালক ডা. মেজহারুল হক, ব্রাকের জেষ্ঠ কর্মকর্তা আকরামুল ইসলাম, এমপাওয়ার’র প্রধান নির্বাহী মৃদুল চৌধুরী ও জাগরীরি অন্যতম উদ্যোক্তা মহারুখ মহিউদ্দিন প্রমুখ।





