মার্কিন এলএনজির ক্রয়াদেশ বাতিলের আশঙ্কা

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে বিশ্বের প্রায় সব দেশই লকডাউন নীতি বেছে নিয়েছে। লকডাউনের কারণে দেশে দেশে বিভিন্ন আর্থিক ও শিল্প খাত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় মন্দায় পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি খাত। বাদ পড়েনি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি বাজার। শীর্ষ ভোক্তা দেশগুলোতে চাহিদা কমায় বিপাকে পড়েছে রফতানিকারক দেশগুলো। সম্প্রতি আগস্টে সরবরাহ করা চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০-৫০টি এলএনজিবাহী কার্গোর ক্রয়াদেশ বাতিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স।
সংশ্লিষ্ট বাজার সূত্রে জানা গেছে, মহামারী প্রাদুর্ভাবের জেরে এশিয়ায় চাহিদার ব্যাপক পতন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রেকর্ড মজুদ বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি রফতানি কমিয়ে আনছে। ফলে আগামীতে সরবরাহ চুক্তির ক্রয়াদেশ বাতিল করতে শুরু করেছে ক্রেতারা। তবে কয়েকটি প্রকল্পের শেষ সময়সীমা আগামী সোমবার হওয়ায় ঠিক কয়টি কার্গোর ক্রয়াদেশ বাতিল হতে পারে, সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট ছয়টি সূত্র জানিয়েছে, আগস্টে সরবরাহ চুক্তিতে ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়া কার্গোর সংখ্যা ৪০ থেকে ৪৫টির কাছাকাছি থাকতে পারে, যা জুলাইয়ে সরবরাহ করা চুক্তিতে ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়া কার্গোর সমান। এর আগে মে ও জুনে সরবরাহ করা চুক্তিতে কমপক্ষে ২০টি মার্কিন এলএনজি পরিবাহী কার্গোর ক্রয়াদেশ বাতিল করেছেন ক্রেতারা। আগামীতে কার্গো ক্রয়াদেশ বাতিলে সংখ্যা আরো বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
মূলত নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি রফতানি খাতে নিম্নমুখী প্রবণতা পড়তে শুরু করেছে। বছরের শুরুর তুলনায় মার্কিন এলএনজি রফতানি এরই মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। ভাইরাসটি সংক্রমণ রোধে দেশে দেশে লকডাউন ও সরকারি বিধিনিষেধের কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়ায় পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদায় বাড়তি চাপ পড়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যটির দামেও দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস সস্তায় কেনাবেচা হচ্ছে।
লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইএইচএস মার্কিটের নির্বাহী পরিচালক টেরেল বেনেক বলেন, বৈশ্বিক মহামারীর সংক্রমণ রোধে লকডাউনসহ নানা ধরনের সরকারি পদক্ষেপ এলএনজির বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্যটির রফতানি হ্রাসের পেছনে যা প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এলএনজি মজুদ সক্ষমতা পূর্ণ হয়ে আসা এর পেছনে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে।
লন্ডনভিত্তিক অর্থবাজার তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রেফিনিটিভের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে মার্কিন এলএনজি পরিবাহী জাহাজের সংখ্যা ছিল ৭৪টি। এপ্রিলে এসে জ্বালানি পণ্যটি পরিবাহী জাহাজের সংখ্যা কমে ৬২টিতে নেমেছে। পরের মাসে মার্কিন এলএনজি পরিবাহী জাহাজের সংখ্যা আরো কমে ৫০টিতে নেমেছে, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। চলতি মাসে খাতটির নিম্নমুখী প্রবণতা আরো প্রকট হতে উঠতে পারে। এলএনজির বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, চলতি গ্রীষ্মের বাকি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্যটির রফতানি কমতির দিকে থাকতে পারে। বিশেষ করে আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে মার্কিন এলএনজি পরিবাহী কার্গো বাতিলের সংখ্যা অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়তে পারে।
এদিকে রফতানি কমে যাওয়ায় এলএনজি খাতে দিন দিন লোকসানের বোঝা ভারী হচ্ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাস তরলায়ন সক্ষমতার পতন ঘটেছে। রেফিনিটিভের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে দেশটি দৈনিক গড়ে ৮৭০ কোটি ঘনফুট এলএনজি উৎপাদন করেছিল। এপ্রিলে দেশটির প্লান্টগুলোতে এলএনজি উৎপাদন কমে দৈনিক গড়ে ৮১০ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। পণ্যটির উৎপাদনে মন্দা এখনো অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি থেকে জ্বালানি পণ্যটির রফতানি প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুতহারে কমছে এবং আগামী দিনগুলোতেও এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।