উপশহরে চাঞ্চল্যকর এনজিও কর্মকর্তা ভিকু হত্যার চার্জশিট, অভিযুক্ত ৪ জন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর উপশহরের চাঞ্চল্যকর প্রত্যাশা সমাজকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক গোলাম কুদ্দুস ভিকু হত্যাকান্ডের আড়াই বছর পর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। ৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এই চার্জশিট দেন সিআইডি পুলিশের ইনসপেক্টর হারুন অর রশিদ।
চার্জশিটে অভিযুক্তরা হচ্ছেন-সদরের রাজাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংস্থার ম্যানেজার বাহার, ঘুরলিয়া গ্রামের আবেদ আলী মোল্লার ছেলে একই এনজিও’র হিসাবরক্ষক মাসুদুর রহমান, শ্যামনগর গ্রামের মৃত ছামেদ আলী বিশ্বাসের ছেলে সাবেক চরমপন্থি নজরুল ইসলাম কেরু ও শহরের শংকরপুর মুরগির খামার এলাকার মৃত কিনাই চৌধুরীর ছেলে হাফিজ আল আসাদ ওরফে কবির চৌধুরী।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২ ডিসেম্বর রাতে উপশহর সি-ব্লকে নিজ বাড়ির সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন প্রত্যাশা সমাজকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক গোলাম কুদ্দুস ভিকু। এ সময় সেখানে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে হত্যার ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার লাকি ৩ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। আসামিরা হলেন-ওই এনজিও’র ম্যানেজার বাহার, হিসাবরক্ষক মাসুদুর রহমান ও নিহতের সাবেক স্ত্রী আমেনা খাতুন। এ মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ এবং পরে সিআইডি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। সিআইডির তদন্তে গোলাম কুদ্দুস ভিকু হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়। এছাড়া জড়িতদের নাম প্রকাশ পায়। তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, প্রত্যাশা সমাজকল্যাণ সংস্থায় বাহার ম্যানেজার ও মামুদুর রহমান হিসাবরক্ষক পদে চাকরি করতেন। তারা নির্বাহী পরিচালকের অনুমতি ছাড়াই উপশহরের এক ব্যবসায়ীকে ১৭ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে গোলাম কুদ্দুস ভিকু তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। এনিয়ে তাদের সাথে ভিকুর গোলযোগ শুরু হয়। এরই এক পর্যায়ে বাহার ও মাসুদুর রহমান কিলার জুয়েল, নজরুল ও কবিরকে ভাড়া করেন। ঘটনার দিন উল্লিখিত ভাড়াটিয়া খুনিরা ভিকুকে গুলি করে ও বোমা হামলা চালিয়ে হত্যা করে। তবে হত্যাকা-ের সাথে জড়িত হাশিমপুরের কিলার জুয়েল পরে চলতি বছর বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় এবং এজাহারভুক্ত আসামি আমেনা খাতুনের কোন সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের দুজনের অব্যহতি চেয়ে এবং বাহার, মাসুদুর রহমান, কবির চৌধুরী ও নজরুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি।