লোকসমাজ ডেস্ক॥ তথ্য সচিব কামরুন নাহার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। তথ্য সচিবের একান্ত সচিব মোহাম্মদ এনামুল আহসান বুধবার এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রবিবার নমুনা পরীা দেওয়ার পর মঙ্গলবার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তবে তার কোনো করোনা উপসর্গ ছিল না। কামরুন নাহারের স্বামী খন্দকার আনোয়রুল ইসলাম মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।
তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা কামরুর নাহার এর আগে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বুধবার সকাল নাগাদ দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৫৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ জনের।
মাগুরার জেলা জজ করোনায় আক্রান্ত
মাগুরার জেলা ও দায়রা জজ এবং তার ছেলে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) একদিনে এই দু’জনসহ জেলায় সর্বোচ্চ ৮ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত ৭২ জন। যার মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩৬ জন। মাগুরা সিভিল সার্জন ডা. প্রদীপ কুমার সাহা জানান, মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা জজ এবং তার ছেলেসহ নতুন ৮ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। নতুন শনাক্ত হওয়া ৫ জন মাগুরা সদরে এবং ২ জন মহম্মদপুর ও একজন শ্রীপুর উপজেলার।
বাগেরহাটে প্রবীণ চিকিৎসকের মৃত্যু
বাগেরহাটের ফকিরহাটে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে উপেন্দ্রনাথ পাল (৭৫) নামে এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই চিকিৎসকের মৃত্যু হয়। বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য বিভাগ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানায়। বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফকিরহাটের কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে তার অন্তষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসক উপেন্দ্রনাথ পাল সত্তরের দশকে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ছিলেন। তার বাড়ি ফকিরহাট উপজেলা সদরের আট্টাকি গ্রামে। ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার দুপুরে বলেন, গত সোমবার চিকিৎসক উপেন্দ্রনাথ পাল ফকিরহাটের বাড়িতে বসে অসুস্থ হলে তাকে তার পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। ওইদিনই তার নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবের পরীায় তার শরীরে করোনা পজিটিভ হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তার মৃত্যু হয়। উপেন্দ্রনাথ পাল সত্তরের দশকে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ছিলেন। বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফকিরহাটের কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে তার অন্তষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে, বাগেরহাটে একদিনে সর্বোচ্চ ৩১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং যশোরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীায় এদের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। গত ১৭ ও ২১ জুন সন্দেহভাজন এই করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীার জন্য ল্যাবে পাঠায় স্বাস্থ্য বিভাগ। আক্রান্তদের অধিকাংশের শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ না থাকায় তাদের বাড়িতে অবরুদ্ধ রেখে চিকিৎসা দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এই নিয়ে বাগেরহাট জেলায় মোট ১৪৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হল। এর মধ্যে ৩০ জন সুস্থ হয়েছেন।
আক্রান্তদের মধ্যে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় পাঁচজন, সদরে ছয়জন, ফকিরহাটে এগারো জন, মোংলায় তিনজন, রামপালে দুইজন এবং চিতলমারিতে চারজন রয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন বাদে সবাই জেলার বাইরে থেকে ফেরা। বাগেরহাটের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সুব্রত দাস দুপুরে এই প্রতিবেদককে বলেন, মঙ্গলবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং যশোরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীায় নারী পুরুষ মিলিয়ে ৩১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বাগেরহাটে এই প্রথম একদিনের নমুনা পরীায় সর্বোচ্চ ৩১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর আগে একদিনে সর্বোচ্চ করোনা পজিটিভ হয় ১৭ জন। গত ১৭ ও ২১ জুন বাগেরহাটের সন্দেহভাজন এই করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। আক্রান্তদের অধিকাংশের শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ না থাকায় বাড়িতে রেখে তাদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। সবাই সুস্থ স্বাভাবিক রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৩০ জন ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাগেরহাট জেলায় এই নিয়ে মোট ১৪৮ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হল।
কুষ্টিয়ায় ২ ব্যক্তির মৃত্যু
কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে শহরের চর আমলাপড়া এলাকার বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম (৫০) নিজ বাড়িতে এবং বারখাদা গ্রামের বাসিন্দা একাব্বার আলী(৬৮) খুলনা মেডিকেলের করোনা ইউনিটে ভোর সাড়ে ৫টায় মৃত্যু হয় বলে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিস সূত্র নিশ্চিত করেছে। কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলার চর আমলাপাড়ার বাসিন্দা একাব্বার আলীর গত ২২ জুন নমুনা পরীায় কভিড-১৯ পজিটিভ হওয়ায় তাকে নিজ বাড়িতেই আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। বারখাদা ত্রিমোহিনী এলাকার বাসিন্দা আসাদুল ইসলামের গত ১৩ জুন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীায় করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। দুই ব্যক্তিই মূলত বাড়িতে থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করছিলেন। গতকাল সকালে আসাদুলের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজের করোনা ইউনিটে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এই নিয়ে কুষ্টিয়ায় করোনা শনাক্ত ৫ম ও ৬ষ্ঠ ব্যক্তির মৃত্যু হল এবং গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় মোট শনাক্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩৬ জন বলেও জানান তিনি।





