চৌগাছা পৌর শহরে সড়কের বেহাল অবস্থা ॥ দুর্ভোগ চরমে

0

এম. এ রহিম, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছা পৌর শহরের সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে গেছে। ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জমছে হাঁটুপানি। সড়কের এমন বেহাল দশায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ফলে শহরে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইবাদৎ হোসেন বলেন, পৌর শহরের সনু ডাক্তারের মোড়, স্বর্ণপট্টি মোড়, যশোর বাসস্ট্যান্ড থেকে ভাস্কর্য মোড়, ভাস্কার্য মোড় হতে কপোতাক্ষ ব্রিজের মাথা ও পারবাজার হতে মৃধাপাড়া মহিলা কলেজ মোড় পর্যন্ত ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের এ সকল স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে গর্ত হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলে কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোর এমন অবস্থা হওয়ায় হাটুরেরা পড়েছেন বেকায়দায়। চৌগাছা কৃষিজাত পণ্য ও মালামাল বেচাকেনা করতে আসা মানুষের কাদাপানি মেখে জামা-কাপড় নষ্ট করে বাড়ি ফিরতে হয়। তিনি বলেন, সারাদেশে করোনার ছোবলে এক নিরব দুর্ভিক্ষ চলছে। শহরের সড়কগুলোর অবস্থা বেহাল হওয়ার কারণে ব্যবসা বাণিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা।


স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, পৌর শহরের এ সড়কগুলি দিয়ে প্রতিদিন শত শত অটোরিকশা, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান চলাচল করে। এ শহরটি উপজেলাবাসীর কৃষিজাতদ্রব্য ধান, পাট, তরিতরকারি, ছাগল-গরু, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন পণ্য বেচাকেনার প্রধান বাজার। অথচ সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে হাঁটু পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। চরম ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ভ্যানচালক আশাদুল ইসলাম বলেন, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ কয়েক হাজার মানুষ এ শহরে প্রতিদিন চলাচল করেন। সড়কগুলোর বেহাল দশার কারণে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। উপজেলার কদমতলা গ্রামের অটোরিকশা চালক আমির হোসেন, পাতিবিলা গ্রামের ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ছোট যানবাহন প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। প্রসূতি ও শিশুসহ অসুস্থ রোগীরা পড়ছেন আরো দুর্ভোগে। এ ব্যাপারে চৌগাছা পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহিদুল ইসলাম বলেন, শহরের এ রাস্তাগুলো সড়ক ও জনপথ বিভাগের। তারপরেও পৌরসভার পক্ষ থেকে বড় বড় গর্তগুলো ইট-বালি দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। পৌর সচিব গাজী আবুল কাশেম বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে, অতি দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।