করোনায় কাঁঠালের ক্রেতা নেই চৌগাছায়

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ মৌসুমি ফল কাঁঠালের কদর রয়েছে গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের বড়বড় অট্টালিকায় বসবাস করা মানুষের কাছে। করোনার কারণে এ বছর কাঁঠালের বাজার দর নিয়ে চাষি এমনকি মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
উপজেলার প্রতিটি গ্রামাঞ্চলে বেশ কয়েক বছর ধরে ব্যাপক ভাবে কাঁঠালের চাষ হচ্ছে। এমন এক সময় ছিল মানুষ শখ করে বাড়ির আঙিনা বা পতিত জমিতে বিচ্ছিন্ন ভাবে কাঁঠাল গাছ রোপন করতেন। সে কাঁঠাল নিজে খাওয়াসহ প্রতিবেশী ও স্বজনদের মাঝে বিতরণ করেছেন। জাতীয় ফল কাঁঠালের কদর প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের প্রতিটি ঘরে ঘরে। তাই কাঁঠালের চাহিদা ব্যাপক থাকায় এ অঞ্চলের কৃষক বাণিজ্যিক ভাবে কাঁঠাল চাষ শুরু করেন। কিন্তু বাজার দর নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতা এমনকি কাঁঠাল চাষিদের মধ্যে বেশ অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে।
সোমবার ছিল চৌগাছার সাপ্তাহিক হাটের দিন। দুপুরে চৌগাছা সরকারি হাইস্কুল মাঠে দেখা যায়, কাঁঠাল নিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ী ও চাষিরা দাঁড়িয়ে আছেন্। এ সময় কথা হয় চাষি আশানুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর হাটে কাঁঠালের যোগান খুব বেশি বলা যাবে না, কারণ ঘূর্ণিঝড় আম্পানে অসংখ্য গাছ ভেঙে গেছে। নষ্ট হয়েছে হাজার হাজার কাঁঠাল। সে কারণে কাঁঠালের বাজারদর ভাল হবে এমনটিই মনে হয়েছে। কিন্তু না গত দুই হাট দাম মোটামুটি সন্তোষজনক হলেও আজ বাজার দরে ধস নেমেছে। এর ফলে ক্ষতিগ্র চাষি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কাঁঠাল ব্যবসায়ী আড়পাড়া গ্রামের শফিউদ্দিন, একই গ্রামের বাবলুর রহমান, পুড়াহুদা গ্রামের ওমর আলী, পাশর্^বর্তী কোটচাঁদপুর উপজেলার টিটোন হোসেন জানান, আজকের হাটে কাঁঠালের দাম খুবই কম। যে কাঁঠাল এর আগে বিক্রি করেছি ৫০ টাকায় আজ তা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। গ্রাম থেকে বেশি দরে কাঁঠাল কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।
কাঁঠালের পাইককারি ব্যবসায়ী ভোলা জেলার সাদেক আলী, খুলনা বটিয়াঘাটা উপজেলার আরেফিন মিয়া, একই এলাকার মাইনুর রহমান, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গোলাম মোস্তফা জানান, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে সড়কে সে ভাবে যানচলাচল করছে না এবং সব এলাকায় বাজারে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি খুবই কম। যার কারণে বাজারগুলোতে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে কম, তাই হঠাৎ করেই কাঁঠালের বাজারে ধস নেমেছে। তবে অচিরেই দাম বাড়বে বলে সকলেই মনে করছেন।

ভাগ