বছরে অর্ধশতাধিক চুরি, মণিরামপুরে মোটরসাইকেল চুরিকালে আটক ২

স্টাফ রিপোর্টার, মনিরামপুর (য়শোর) ॥ মনিরামপুরে একের পর এক মোটরসাইকেল চুরি হচ্ছে। পুলিশ যেমন চোর ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে তেমনি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করতে পারছে না। ফলে মোটরসাইকেল মালিকদের মাঝে চোর আতঙ্ক বিরাজ করছে। কয়েকমাস আগে যশোরের মনিরামপুর পৌরশহরের ফায়ার সার্ভিসের পিছনে বাসার গ্রিল ভেঙে চুরি হয় থানার এস আই জহির রায়হানের নতুন পালসার মোটরসাইকেল। তার আগে একই বাসা থেকে অনুরুপভাবে চুরি হয় সাংবাদিক ফারুক আলমের হিরো হোন্ডা মোটরসাইকেলটি।
শুধু এ দুটি মোটরসাইকেলই নয়, গত একবছরে মনিরামপুরে চুরি হয় কলেজ শিক্ষক প্রবীর রায় চৌধুরী ব্যালটের পালসার, আইনজীবী সুমনের পালসার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান, ব্যাংক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণমাথায় ওয়ালটন শোরুমের মালিক মামুনের অ্যাপাসিসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল। অধিকাংশ চুরির ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়। কিন্তু পুলিশ এ পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি, উদ্ধার করতে পারেনি একটি মোটরসাইকেলও। তবে রবিবার বিকেলে একজন স্কুল শিক্ষকের মোটরসাইকেল চুরি করে পালানোর সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের দুই সদস্য। উদ্ধার হয়েছে শিক্ষকের মোটরসাইকেলটিও।এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার পারকরফা গ্রামের মতি মোল্যার ছেলে নূর ইসলাম এবং খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার গাড়াখোলা গ্রামের মৃত জাকির হোসেনের ছেলে আকতার হোসেন। পুলিশ সোমবার তাদেরকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। জানা যায়, মনিরামপুরে একের পর এক মোটরসাইকেল চুরি হওয়ায় মোটরসাইকেল মালিকদের মধ্যে চুরি আতঙ্ক বিরাজ করছে। কলেজ শিক্ষক প্রবীর রায় চৌধুরী জানান, তার পালসারটি চুরি হওয়ার পর নিরাপত্তহীনতার কারণে পুনরায় আর কোন মোটরসাইকেল কেনেননি। ব্যাংক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, বিয়ে বাড়ির সামনে থেকে দিনেরবেলা নতুন মোটরসাইকেলটি চুরি হবার পর থানায় জিডি করা হয়। কিন্তু পুলিশ তার উদ্ধার করতে পারেনি। এসআই জহির রায়হান অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানান, তার পালসারটি চুরি হবার পর এখনও উদ্ধার করতে পারেননি। তবে চেষ্টা চলছে। উপজেলার কুলটিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উত্তম কুমার মন্ডল জানান, রবিবার বিকেলে তিনি নিজের ডিসকভার মোটরসাইকেল চালিয়ে মশিয়াহাটি বাজারে যান। একটি ফার্মেসির সামনে মোটরসাইকেল রাখেন কেনাকাটা করার জন্য। মুহূর্তের মধ্যে দুই যুবক তালা ভেঙে মোটরসাইকেলটি চুরি করে পালানোর সময় তিনি দেখতে পেয়ে চিৎকার করেন। এ সময় বাজারের লোকজন ধাওয়া করে মোটরসাইকেলসহ তাদেরকে আটকের পর পিটুনি করে। খবর পেয়ে পুলিশ তাদেরকে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় স্কুল শিক্ষক উত্তম কুমার মন্ডল বাদি হয়ে আটক নুর ইসলাম এবং আকতার হোসেনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত অরো দুই ব্যক্তির নামে থানায় একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই আব্দুর রহমান জানান, আটক দুই যুবক আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের সদস্য। সোমবার তাদেরকে আদালতে চালান দিয়ে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। ওসি (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান জানান, আটককৃতদের রিমান্ড মঞ্জুর হলে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন হবে।

ভাগ