বাগেরহাটে ১৪ দিন পর এসেছে ২৬ জনের রিপোর্ট, অপেক্ষমাণ ২২২

বাগেরহাট সংবাদদাতা ॥ বাগেরহাটে করোনা ভাইরাস পরীার রিপোর্ট পেতে এক সপ্তাহ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত অপো করতে হচ্ছে রোগী ও তার স্বজনদের। সময়মত রিপোর্ট না পাওয়ায় প্রয়োজনীয় পদপে ও সতর্কতা অবলম্বন করা যাচ্ছে না। রোগী ও তার স্বজনরাও হতাশায় ভুগছেন। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। সদর হাসপাতালে পিসি আর ল্যাব স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট জেলায় এ পর্যন্ত ১৭৩০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৩০ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। রিপোর্টে ১১১ জনের পজিটিভ এসেছে। ২২২ জনের রিপোর্ট এখনও অপেমান রয়েছে। এদের মধ্যে ১২০টি নমুনা ১৪ থেকে ১৬ (৬,৭, ৮ জুন) দিন আগে পাঠানো হয়েছে। নমুনাগুলো খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে রয়েছে। কবে নাগাদ এই রিপোর্ট পাওয়া যাবে তাও সঠিক করে বলতে পারছে না স্বাস্থ্যবিভাগ। এদিকে নমুনা দেওয়ার পরে রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। রিপোর্ট নেওয়া সন্দেহভাজন রোগীর প্রতিবেশীরাও এক ধরনের আতঙ্কে থাকছেন। করোনা পরীার জন্য নমুনা দেওয়া এক রোগী বলেন, ‘৭ তারিখে নমুনা দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত রিপোর্ট পাইনি। জানিনা, করোনা হয়েছে কিনা। বাসার সবাইতো টেনশনে আছে। প্রতিবেশীরাও নানা কথা বলছেন। রিপোর্ট এলে বুঝতে পারতাম। চিকিৎসকদের কাছে রিপোর্টের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন পেয়ে যাবেন, একটু অপো করেন’।
নমুনা দেওয়ার পরে রিপোর্ট না পাওয়া এক রোগীর স্বজন রহিম বলেন, ১০-১২ দিন আগে ভাইয়ের নমুনা নিয়েছে। কিন্তু এখনও রিপোর্ট আসেনি। ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা অনেকটা ভাল। তারপরও জোর করে ঘরে বদ্ধ করে রেখেছি। রিপোর্ট পেলে তো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত টেনশন কাটছে না। চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মামুন হাসান বলেন, করোনার নমুনা পরীার রিপোর্ট আসতে কিছুটা বিলম্ব হয়। ১২দিন পরেও রিপোর্ট পেয়েছি। এমন হলে রোগী ও রোগীর স্বজনদের নিয়ম মানতে অনেক কষ্ট হয়। ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অসীম কুমার সমাদ্দারও একই মন্তব্য করেছেন। করোনা পরীার েেত্র প্রায় একই চিত্র ১৮ লাখ মানুষ অধ্যুষিত বাগেরহাট জেলার অধিকাংশ েেত্র। যাত্রাপুরের এক ভ্যানচালক নমুনা দেওয়ার পর ভ্যান চালিয়েছেন। ৬ দিন পর তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে।
বাগেরহাট সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুর রব বলেন, প্রাণঘাতী করোনা পরীার ফলাফল পেতে অতিবিলম্ব হওয়া ভয়াবহ। কারণ এদের মধ্যে যারা পজিটিভ, তারা অজান্তে সামাজে সংক্রমণ ছড়াচ্ছেন। ফলে ভয়াবহ এ রোগের দ্রুত বিস্তার হচ্ছে। ১৮ লাখ মানুষের জন্য এ জেলায় কোন পিসিআর ল্যাব নেই এটাও কষ্টের। তাই করোনার মহা-দুর্যোগের সময় সঠিক পরীা ও জেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি জানান তিনি। বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কে.এম হুমায়ূন কবির বলেন, বাগেরহাট জেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে স্থানীয় নমুনার চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের ১২০টি নমুনা অপেমান রয়েছে। আমরা যোগাযোগ করছি যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নমুনাগুলোর পরীা রিপোর্ট পাওয়া যায়। আর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে যেসব নমুনা পাঠানো হচ্ছে তা দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে।বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, বাগেরহাটে পিসিআর মেশিন স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আমরা আশা করি বাগেরহাটে পিসিআর ল্যাব স্থাপন হলে এ জেলার নমুনা রিপোর্ট স্বাস্থ্যবিভাগ দ্রুত পাবে। এতে সময়মত প্রয়োজনীয় পদপে নেওয়া যাবে।

ভাগ