মাসুদ রানা বাবু ॥ যশোর শিক্ষাবোর্ডে এই প্রথম বদলি আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন সাড়ে চার মাস আগে চেয়ারম্যান পদে যোগদান করার পর ৬৭ জন কর্মচারী ও ১০ জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হলে এই আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় বোর্ডের কর্মচারী কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন বলে জানিয়েছেন, বোর্ডের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমির হোসেন চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি যোগদান করেন। যোগদানের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় ৬ ফেব্রুয়ারি বদলি কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। প্রথম দফায় পৃথক দুটি আদেশে ২০ জনকে বদলি করেন। এরমধ্যে ৫/১০৪/৩/২৯১০ নম্বর স্মারকে ১২ জন ও ৫/১০৪/৩/২৯১০ নম্বর স্মারকে আটজনকে বদলি করেন। একই তারিখে ১০ জন কর্মকর্তাকেও বদলি করেন তিনি।
এরপর দ্বিতীয় দফায় এক মাস তিনদিনের মাথায় গত ১০মার্চ তিনি ৫/১০৪/৩/২৯৪৩(১৩) নম্বর স্মারকে ২১ জনকে বদলি করেন । এখানেও তিনি সিবিএ’র পক্ষের লোকজনকে বদলি করেন। সর্বশেষ,তিনি গত ১৪ জুন পৃথক দুটি আদেশে ২৬ জনকে বদলি করেন। যার একটির স্মারক নম্বর ১/৩০/২৯৭৩ এবং অপরটির ১/৩০/২৯৭৪। বিধি অনুযায়ী সব বদলির আদেশে স্বাক্ষর করেছেন বোর্ডের সচিব প্রফেসর এএমএইচ আলী আর রেজা। সর্বশেষ, বদলিতে বর্তমান সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামানের নাম থাকায় কর্মচারী নেতা ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। বোর্ডের সকল কর্মকর্তা কর্মচারী এখন বদলি আতঙ্কে আছেন বলে তারা জানিয়েছেন। তারা আরও জানিয়েছেন, যশোর শিক্ষাবোর্ডের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে এতবেশি বদলি এটিই প্রথম। কর্মচারী নেতারা বলছেন, যশোর শিক্ষাবোর্ডে সরকার অনুমোদিত রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত সিবিএ রয়েছে। লিখিত কোনো আইন না থাকলেও সব অফিসে সিবিএ’র সাথে আলোচনা করে কর্মচারীদের বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। যশোর শিক্ষাবোর্ডে এ যাবৎকাল সেটিই হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কিন্তু এবারই প্রথম সিবিএ’র সাথে আলাপ আলোচনা না করেই চেয়ারম্যান বদলি করেই চলেছেন। তাদের অভিযোগ তিনি কেবল বদলিই করছেন না, সিবিএ’র পদস্থ নেতাদের পর্যন্ত বদলি করে কর্মচারীদের এ সংগঠনকে অবমূল্যায়ন করছেন। ফলে, সিবিএ’র গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে যাচ্ছে। তারা বলছেন,‘বর্তমান চেয়ারম্যান হিংসাত্মক আচরণ করছেন। তিনি অবস্থা এমন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন যে, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার প্রতিহিংসার শিকার হয়ে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। এ কারণে তারা স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন না।’ বদলি সংক্রান্ত পত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জুলফিকার নামে এক কর্মচারীকে তিন দফায় বদলি করা হয়েছে। এছাড়া, ১৪ জনকে বদলি করা হয়েছে দু বার। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, উল্লিখিত ১৫ জনকে ‘বিশেষ সুবিধা’ দিতে অল্প সময়ের মধ্যে একাধিকবার বদলি করেছেন। তাদের আরও অভিযোগ, চেয়ারম্যান চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে রেকর্ড সাপ্লায়ারকে গেটে দারোয়ানের পদে বদলি করেছেন। যা তাদের জন্যে রীতিমতো অসম্মানের। এসব কারণে শিক্ষাবোর্ডের বর্তমান ক্ষমতাসীন সিবিএ ও শ্রমিক লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তারা ইতোমধ্যে চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন জায়গায় স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাতে ঠিকমতো কাজ না হলে বৃহত্তর আন্দোলন সংগ্রামে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা। শিক্ষাবোর্ডের এই বদলি নিয়ে দু পক্ষের মধ্যে দু ধরনের প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। বর্তমান সিবিএ সমর্থিতদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ আর হতাশা। অপরদিকে, সিবিএ’র ক্ষমতার বাইরে থাকারা খানিকটা উল্লসিত। তারা নাকি বর্তমান সিবিএ’র ক্ষমতা নিয়ে কটাক্ষ করছেন। আর এ কারণে ক্ষোভের জ্বালা বাড়ছে ক্ষমতাসীনদের। এসব বিষয়ে যশোর শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী কল্যাণ সমিতির (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বলেন ,‘সিবিএ সরকার অনুমোদিত শ্রমিক সংগঠন। প্রত্যেকটি অফিসে কর্মচারীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সিবিএ’র সাথে আলোচনা করে নেয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষাবোর্ডে সেটি হচ্ছে না। যদিও কর্তৃপক্ষ তাদের ইচ্ছেমতো সবকিছু করার ক্ষমতা রাখে। সিবিএ’র সাথে আলাপ করলে ভুল বোঝাবুঝি থাকে না। ’ এদিকে, বদলির বিষয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন বলেন, যশোর শিক্ষাবোর্ড ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনেক দূর এগিয়েছে। এই বোর্ডের অনেক মর্যাদা রয়েছে। আমি সব সময় মনেপ্রাণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বোর্ডের সকল সফল কার্যক্রম ধরে রেখে এটিকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এ জন্য আমি যাকে যেখানে ভালো মনে করেছি তাকে সেখানে বদলি করেছি। কারও মন রক্ষার জন্য না। আমার কাছে কে নেতা সেটি বড় না। তার কাজের যোগ্যতা কেমন সেটিই বড় বিষয়।





