করোনা : যশোরে কোরবানির পশু বেচাকেনা নিয়ে আগেভাগে সতর্ক হচ্ছে জেলা প্রশাসন

আকরামুজ্জামান ॥ কোরবানির পশু বেচাকেনার ব্যাপারে আগেভাগেই সতর্ক হচ্ছে যশোরের জেলা প্রশাসন। করোনা আতঙ্কের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পশুহাটে ক্রেতাদের চাপ কমাতে খামারি ও গৃহস্থালি পর্যায় থেকে কুরবানির পশু কেনার জন্য সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে কুরবানির হাটেও পশু বেচাকেনা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। মুসলমানদের সবচেয়ে বৃহৎ দুটি ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা অর্থাৎ কোরবানির ঈদ। এই বিশেষ দিবস দুটি ঘিরে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে উৎসবের বন্যা বয়ে যায়। তবে এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় মুসলমানরা ঈদগাহের পরিবর্তে স্ব স্ব এলাকার মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। করোনাকালে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় সরকার এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।
ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রায় একমাস পেরিয়ে গেছে। এখন দরোজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আযহা অর্থাৎ কোরবানির ঈদ। চন্দ্রমাসের হিসেব অনুযায়ী আগামী ৩১ আগস্ট বা ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে পারে কোরবানির ঈদ। এই ঈদ যখন মুসলমানদের দোরগোড়ায় ঠিক তখনি বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মহামারি আকার ধারণ করছে। যশোর জেলাতেও করোনা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে এ অবস্থায় সামনের কুরবানির ঈদ নিয়ে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির ঈদে সাধারণত পশুহাট নিয়ে একটু ঝামেলা থাকে। কোরবানির আগ মুহূর্তে পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে ওঠে। প্রতিটি হাটেই বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে পা ফেলার জায়গা থাকে না। মানুষ আগেভাগেই প্রস্তুত থাকে সরাসরি হাট থেকে গরু বা ছাগল কেনার জন্য। তাই এবার করোনাভাইরাসের কারণে এসব হাটে মানুষের চাপ কমাতে নানা উদ্যোগ নেয়া হবে।পরিবেশবিদরা বলছেন, প্রতিবছরই বিভিন্ন শর্ত দিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পশুহাট বসে। এসব হাটের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে উদাসীনতার পাশাপাশি নানা অনিয়ম করেন হাট মালিক ও ইজারাদাররা। গতবছর ডেঙ্গুজ্বরের আতঙ্কের কারণে বেঁধে দেয়া বিধিনিষেধও উপেক্ষিত হয়। তাই করোনাকালে এবার যদি কোরবানির হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলা হয় তাহলে এর জন্য চরম খেসারত দিতে হবে। এ বিষয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন ওয়ার্ল্ড অ্যানভাইরনমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশিক মাহমুদ সবুজ বলেন, এবার কোরবানিতে পশুহাটে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিবে। কেননা দেশে এখন করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি চরম পর্যায়ে চলে গেছে। পশুহাট থেকে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল রয়েছে। তাই এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এখনই প্রস্তুত হওয়া উচিৎ। এ পরিস্থিতিতে পশুহাটের সংখ্যা কমানো যায় কি না সে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের দৃষ্টিতে আনেন তিনি। পাশাপাশি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন জানিয়ে দেয়া জরুরি।
এ বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শফিউল আরিফ বলেন, যশোরে যেসকল হাট পশু বেচাকেনার জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে সেসব হাটেই এবার কোরবানির পশু বিক্রি হবে। তবে এসব হাটে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, কোরবানির হাটে মানুষের ভিড় কমাতে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার স্বার্থে আমরা কিছু উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি। যেসকল মানুষ কোরবানির পশু কেনার জন্য প্রস্তুত আছেন তাদেরকে আগেভাগেই বিভিন্ন খামার ও গৃহস্থের কাছ থেকে পশু কিনে রাখার জন্য উৎসাহিত করছি। এটি করতে পারলে পশুহাটে মানুষের চাপ কমবে এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে সহজ হবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি নির্দেশনা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেব। সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে মানুষকে মাইকিং করে এ বিষয়ে সচেতনতার জন্য আহবান করা হবে। জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্য মতে, গত বছর কোরবানিতে জেলায় ৬০ হাজার গরু ও ছাগলের চাহিদা ছিলো। কিন্তু ৮টি উপজেলায় ৭০ হাজার ৬’শ ২৪টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেন খামারিরা। যা চাহিদার চেয়ে ১০ হাজার ৬’শ ২৪টি বেশি গরু ও ছাগল ছিলো। এবার এর চেয়ে আরও ২ শতাংশ গরু ও ছাগল প্রস্তুত করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর যশোর জেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মো. শফিউল আলম বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার চাহিদার চেয়েও বেশি সংখ্যক পশু প্রস্তুত রয়েছে। সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব গরু-ছাগল পরিচর্যা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এবার কোরবানির প্রেক্ষাপট যেহেতু ভিন্ন, সেজন্য পশু বেচাকেনার ক্ষেত্রে আমরা খামারি ও ব্যবসায়ীদের কৌশলী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। তিনি বলেন, আমাদের সামনে এখন দুটি চ্যালেঞ্জ। একটি হচ্ছে খামারিরা যারা কষ্ট করে পশু পালন করছেন তারা যেন তাদের পশু ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারেন, অপরটি করোনা সংক্রমণ থেকে নিজে ও অন্যদের রক্ষা করতে পারেন। এজন্য পশু বেচাকেনার ক্ষেত্রে খামারি পর্যায়ে যোগাযোগের জন্য সবাইকে উৎসাহিত করছি। এতে পশুহাটে মানুষের চাপ কমবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে খামারিদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

ভাগ