কুষ্টিয়ায় পুলিশ-বিজিবি সদস্যসহ করোনা আক্রান্ত ৩৭, এক সরকারি কর্মচারীর মৃত্যু

0

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা॥ কুষ্টিয়ায় উপজেলার কোর্টপাড়া এলাকায় করোনা আক্রান্ত রিজিয়া খাতুন (৬৪) নামের এক সরকারি কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, কুষ্টিয়ায় নতুন করে আরও ৩৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে চারজন ব্যাংক কর্মকর্তা, দু’জন পুলিশ ও দু’জন বিজিবি সদস্য রয়েছেন। রবিবার রাতে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাক্তার এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
কুষ্টিয়ায় উপজেলার কোর্টপাড়া এলাকায় করোনা আক্রান্ত রিজিয়া খাতুন (৬৪) নামের এক সরকারি কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) ভোর সাড়ে ৪টায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এনিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত চারজন রোগীর মৃত্যু হলো। রিজিয়া খাতুন শহরের কোর্টপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত: ফকির মোহম্মদের স্ত্রী ও সদর উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরে ইউনিয়ন সমাজকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা: তাপস কুমার সরকার বলেন, রিজিয়া খাতুন শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় জ্বর নিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৪টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আবু রায়হান জানান, সদর উপজেলার ইউনিয়ন সমাজকর্মী রিজিয়া খাতুন গত ১০ দিন যাবত জ্বর,সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। গত ২০ জুন করোনা সন্দেহে নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ পিসিআর ল্যবে পরীক্ষার পর ফলাফল পজেটিভ আসে। মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রোগীর করোনা পজেটিভ জানার পর অসুস্থতা আরও বেড়ে যায়। এসময় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য সিভিল সার্জন, হাসপতাল এবং প্রচারিত হট নাম্বারে বার বার ফোন করেও অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহনের কোন সাহায্য পায়নি। কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, রোববার রাতে রিজিয়া খাতুনকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিলো। সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের উদ্যেগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার দাফন সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে গতকাল জেলার ১৮২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩৭টি ফলাফল পজিটিভ আসে। আক্রান্তদের মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ১৪ জন, ভেড়ামারা উপজেলায় ৬ জন, মিরপুর উপজেলায় ৫ জন, কুমারখালী উপজেলার ৬ জন ও দৌলতপুর উপজেলায় ৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে চারজন ব্যাংক কর্মকর্তা, দু’জন পুলিশ সদস্য ও দু’জন বিজিবি সদস্য রয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৮৪ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে এখনো পর্যন্ত তিনজন মারা গেছেন। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৯৭ জন রোগী।