মূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর হতে হবে

0

করোনাভাইরাস সমাজজীবনে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। তিন মাসের সাধারণ ছুটি নিম্ন আয়ের অনেক মানুষকে কর্মহীন করেছে। অনেক মানুষ সঞ্চয় ভেঙে খেয়েছে। এই ঘোর দুঃসময়েও নিত্যপণ্যের বাজার সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। একটু পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরুতে মানুষের মধ্যে নিত্যপণ্য মজুদের হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। তখনো বাজারে এর প্রভাব পড়ে। বেড়ে যায় নিত্যপণ্যের দাম। এখন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লকডাউনের খবরে আবার বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে বলে জানা গেছে। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, গত ৩১ মে সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর নিত্যপণ্যের দাম কমতে শুরু করেছিল। গত সপ্তাহ পর্যন্ত অনেকটাই কমেছিল সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম। কিন্তু ফের লকডাউনের খবর চাউর হলে এই সপ্তাহের শুরু থেকে আবার বাজারে বেড়েছে কেনাকাটার চাপ। এতে নিত্যপণ্যের দামও কিছুটা বেড়েছে।
বাজারে পণ্যের দাম কেন বাড়ে? সাধারণত চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেলে বাজারে যেকোনো জিনিসের দাম বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মুক্তবাজারে যখন যেকোনো পণ্য সহজেই আমদানি করা যায় তখন দাম বাড়ার কথা নয়। কিন্তু বাংলাদেশে নীতিনৈতিকতা নেই বললেই চলে। সুযোগ পেলেই কোনো না কোনো অজুহাতের কথা বলে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সভ্য দুনিয়ায় খুচরা পর্যায়ের বাজারেও কিছু নিয়ম-কানুন থাকে। দুর্ভাগ্য, আমাদের তা নেই। ফলে বাজার যখন-তখন চরমভাবে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। সাধারণ মানুষ এখন দৈনন্দিন বাজারের চাহিদা মেটাতে গিয়ে রীতিমতো প্রমাদ গুনছে। সবচেয়ে বিপদে আছে নিম্ন আয়ের মানুষ। যিনি দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করেন, তাঁর দিনের মজুরি একই আছে। বাধ্য হয়ে তাঁদের খাদ্যের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হচ্ছে। কারো কারো মাসিক বাজার খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে শরীরের ওপর। জীবনযাত্রার ওপর। অনেকে হয়তো ছেলে-মেয়েদের শিাজীবন ব্যাহত করে পরিবার সামলাচ্ছেন। লকডাউনের নামে যেভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে, তা একেবারেই ব্যাবসায়িক নৈতিকতাবিরোধী বলে আমরা মনে করি। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও হুজুগে না মেতে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। অতিরিক্ত পণ্য ঘরে মজুদ করে রাখার কোনো যুক্তি আছে বলে মনে হয় না।
বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে পারত একটি বিকল্প বাজার ব্যবস্থা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সেদিকে কোনো দৃষ্টি আছে বলে মনে হয় না। বাজারে নিয়মিত নজরদারিতেও যেন অনীহা যথাযথ কর্তৃপরে। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের জিম্মি করতে পারছেন। এ অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় বাজার স্থিতিশীল রাখা। আর এ দায়িত্বটি সরকারের। আমরা আশা করবো সরকার বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেবে।