মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) সংবাদদাতা ॥ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়ন পরিষদে মৎস্য কার্ডের চাল নিয়ে চলছে চালবাজি। উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়ন পরিষদের ৬ শ ২৮ টি মৎস্য কার্ড থাকা সত্ত্বেও ৬ শ জনের অনুকূলে সরকারি চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে অনেকেই এ পর্যন্ত চাল পাননি। ৫৬ কেজি করে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও গত ১০ জুন পরিষদে বসে ৫১৭ জনের কার্ডের অনুকূলে ৫০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
বাকি কার্ডের মাস্টাররোল তৈরি করা হলেও তাদেরকে কোন চাল দেয়া হয়নি। এমনকি ২ বছর ও ৩ বছর আগে মৃত্যুবরণকারী এমন ব্যক্তির কার্ডের অনুকূলের চাল কারো ভাই, কারো নাতির কাছে দিয়ে বিতরণ দেখানো হয়েছে। অথচ অনেক বৃদ্ধ, গরীব অসহায় তাদের কার্ডের চাল দেয়া হয়নি। কথা হয় মৎস্য চাল না পাওয়া একাধিক কার্ড হোল্ডারের সাথে। কেউ কেউ জানান, এবার নতুন কার্ড তাই চাল দেয়া হবে না। বিভিন্ন খরচ আছে, পরবর্তীতে কার্ডে চাল দেয়া হবে। গত ১৬ জুন এক নম্বর ওয়ার্ডের মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি মো. বাবুল খান পরিষদ থেকে ৫০ কেজির ১৬ বস্তা চাল ট্রলারযোগে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় সোনাখালী স্লুইসগেটে পৌঁছালে স্থানীয় জনতা ও চাল না পাওয়া ব্যক্তিরা তাকে আটক করে প্রশাসনকে সংবাদ দেন সংবাদ পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রঞ্জন চন্দ্র দে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে আটককৃত ১৬ বস্তা চাল জব্দ করে ১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ডা. সোবাহানের কাছে জমা রাখেন।
প্রশাসন চাল জব্দ করে রেখে চলে আসার পরপরই সুকৌশলে বাবুল খানের লোকজন বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য স্থানীয় লোকজন ও কার্ডের চাল না পাওয়া লোকজনদের ওপর চড়াও হলে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু করে। মারপিটের ঘটনায় মোরেলগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ১৭ তারিখ বিকেলে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার পরিষদে কয়েকজন সাংবাদিক ডেকে সংবাদ সম্মেলনের মধ্যমে নিজেকে নির্দোষ প্রমান করার চেষ্টা করেন। এ ব্যাপারে ১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য ডা. সোবাহান বলেন, ‘আমার কাছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ১৬ বস্তা চাল জমা রেখে যান। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে ১৬ জনের মাস্টাররোল তৈরি করে বিতরণ করা হয়েছে’। ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার বলেন, জব্দকৃত চাল পরে বিতরণ করা হয়েছে। মোট ৬২৮ কার্ডের মধ্যে ২৮ টি কার্ড মৎস্য অফিস থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। বাকি সমস্ত কার্ডে তারা চাল পাবে। এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রঞ্জন চন্দ্র দে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার ভূমির প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসককে পাঠানো হয়েছে।




