ছোট্ট শরীরে ক্যানসারের পর করোনার হানা

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ শ্রাবণ। বয়স মাত্র ১৩ বছর। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে প্রাণঘাতী ব্লাড ক্যানসারের অস্তিত্ব ধরা পড়ে তার শরীরে। ক্যানসারের চিকিৎসা করাতে শ্রাবণকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে। কিন্তু এ যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। ছোট্ট শরীরে ক্যানসারের পর করোনা হানা দিয়েছে। এখন করোনার চিকিৎসা করাতে সকাল থেকে এ হাসপাতাল থেকে ও হাসপাতাল ছুটছেন পরিবারের সদস্যরা। ঢাকা মেডিক্যাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে অবশেষে পুরান ঢাকার একটি হাসপাতালে শ্রাবণের ভর্তির ব্যবস্থা হয়।
কথা হয় শ্রাবণের চাচা রুবেল হোসেনের। কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রুবেল। বলেন, ও আমাদের বংশের একমাত্র ছেলে। শ্রাবণকে নিয়ে আমাদের কত স্বপ্ন। কত আশা। এখন যেন সব মিয়িয়ে যেতে বসেছে। ও সারাক্ষণ বন্ধু আর স্কুল নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। এখন সে হাসপাতালের বিছানায়। একদিকে করোনা আরেক দিকে ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছে। মিটফোর্ড হাসপাতালে ক্যানসার বিভাগে (হেমাটোলজি) চিকিৎসাধীন ছিলো। গতকাল করোনা পরীক্ষা করতে বললে আমরা শ্রাবণের করোনা পরীক্ষা করাই। পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ আসে। অতঃপর ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করতে অনেক চেষ্টা করেও ভর্তি করতে পারিনি। পরে রাজধানীর নয়াবাজারে অবস্থিত ঢাকা মহানগর হাসপাতালে নিয়ে যাই। শ্রাবণের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার সরাইল উপজেলায়। তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে শ্রাবণ মেজো। বাবা মো. জাহাঙ্গীর মিয়া সৌদি প্রবাসী। মা ফাতেমা বেগম গৃহিণী। শ্রাবণ সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। এবছর পরীক্ষা দিতে পারলে অষ্টম শ্রেণীতে উঠতো। ২০১৯ সালের আগষ্ট মাসে ক্যানসার ধরা পরে। ইতোমধ্যে শ্রাবণকে কেমোথেরাপি দেয়া হয়েছে। থেরাপির আরো একটি কোর্স বাকী আছে। একেতো রক্তে ক্যানসার তার ওপর এখন আবার করোনা ভাইরাস আঘাত হেনেছে। শ্রাবনের স্বজনরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত যে ভাল আছে। সঠিক চিকিৎসা পেলে হয়তো সে সেরে উঠতে পারবে।