স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর বাঘারপাড়ার জহুরপুর গ্রামের ভাটাশ্রমিক রাজিয়া খাতুন হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ওই নারীকে তার স্বামী (ভাটাশ্রমিক) শহিদ বিশ্বাস নিজেই পিটিয়ে হত্যা করেছেন। সাবেক স্বামীর সাথে সম্পর্ক রাখার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তাকে হত্যা করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ আটক শহিদ বিশ্বাসকে আদালতে সোপর্দ করলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা বলেছেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুম্মান খান।
আটক শহিদ বিশ্বাস যশোর সদর উপজেলার পাগলাদহ গ্রামের মোজাফ্ফর বিশ্বাসের ছেলে। জবানবন্দিতে তিনি আদালতকে জানিয়েছেন, তিন মাস আগে রাজিয়া খাতুনের সাথে তার বিয়ে হয়। তারা দু’জনেই ইটভাটার শ্রমিক। জহুরপুর গ্রামের লস্কর ভাটায় কাজ করেন এবং সেখানেই থাকেন। তার স্ত্রীর প্রথম স্বামীর নাম তরিকুল ইসলাম। প্রথম স্বামী কেশবপুরের একজন ভাটা শ্রমিক। কিন্তু বিয়ের পর তার স্ত্রী গোপনে সাবেক স্বামীর সাথে যোগাযোগ রাখতেন। এ পর্যন্ত পাঁচ দিন রাজিয়া খাতুন গোপনে সাবেক স্বামীর কাছে গিয়ে দেখাও করেছেন। তিনি তাকে এ জন্য নিষেধ করলেও শোনেননি তার স্ত্রী। ঘটনার দিন রাত দুটোর দিকে ঘরের ভেতর তিনি দেখতে পান তার স্ত্রী সাবেক স্বামীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রচ- গোলাযোগ হয়। এক পর্যায়ে তার স্ত্রী তাকে বটি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ফলে তিনি প্রাণ বাঁচাতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। তার স্ত্রীও পিছু পিছু আসে। এ সময় তিনি বাঁশের একটি মোটা চটা দিয়ে তার স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করেন। এর ফলে তার স্ত্রী বসে কাঁদতে থাকেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তাকিয়ে দেখেন তার স্ত্রী মাটিতে পড়ে রয়েছেন এবং মারা গেছেন। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নিহত রাজিয়া খাতুন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের জালাল মোড়লের মেয়ে। ১০ বছর আগে কেশবপুর উপজেলার জাহানপুর গ্রামের তরিকুল ইসলামের সাথে রাজিয়া খাতুনের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি সন্তান রয়েছে। তিন মাস আগে রাজিয়া খাতুন প্রথম স্বামীকে তালাক দিয়ে শহিদ বিশ্বাসকে বিয়ে করেন। সূত্র জানায়, জহুরপুরের লস্কর ভাটায় কাজ করার সুবাদে রাজিয়া খাতুন ও শহিদ বিশ্বাসের মধ্যে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা বিয়ে করেন। উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন দিবাগত রাতে জহুরপুর গ্রামের লস্কর ভাটার একটি ঘরের সামনে খুন হন শ্রমিক রাজিয়া খাতুন। পরদিন ১৬ জুন সকালে পুলিশ সেখান থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। শরীরে এ সময় অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন ছিলো। তবে লাশ উদ্ধারের সময় শহিদ বিশ্বাস প্রচার করেছিলেন, ১৫ জুন রাতে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েক ব্যক্তি জোর করে তাদের ঘরে ঢোকেন। তিনি এ সময় ভয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন। ওইসব লোক চলে গেলে তিনি তার স্ত্রীর লাশ দেখতে পান। তবে পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় তারা সেসময় শহিদ বিশ্বাসকে আটক করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন। পুলিশ জানায়, রাজিয়া খাতুন হত্যার ঘটনায় তার পিতা জালাল মোড়ল বাঘারপাড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনি তার মেয়ের হত্যাকা-ে জামাই শহিদ বিশ্বাস জড়িত থাকতে পারেন এমন সন্দেহের কথা উল্লেখ করেছিলেন।





