খুলনায় ডা. রকিব খান হত্যা মামলায় ৫ জন গ্রেফতার, চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে দুর্ভোগ

খুলনা ব্যুরো ॥ খুলনার রাইসা ক্লিনিকের পরিচালক ও বাগেরহাট ম্যাটস’র অধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুর রকিব খান হত্যা মামলার প্রধান আসামি জমিরসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে আব্দুর রহিম নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির এ তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে ডা. রকিব হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি জমির, আবুল আলী, গোলাম মোস্তফা ও খাদিজাকে গাজীপুরের টঙ্গী এবং খুলনার রূপসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে এজাহারভুক্ত চার আসামির মধ্যে তিনজন রয়েছে। এর আগে গত বুধবার দুপুরে নিহতের ছোট ভাই খুলনা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে খুলনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়। এদিকে, ডা. আব্দুর রকিব খান হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতার-শাস্তি এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবিতে খুলনায় মহামারি করোনা ভাইরাসের মধ্যেও সরকারি-বেসরকারি ক্লিনিক এবং হাসপাতালের চিকিৎসকরা কর্মবিরতি শুরু করেছেন। বুধবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) খুলনার ডাকে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। তবে এর আওতার বাইরে রয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও করোনা হাসপাতাল।
খুলনা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ডাক্তারদের ধর্মঘট চলছে, তা আমরা জানতাম না। রোগী নিয়ে এসে এখন দেখি সব বন্ধ। কী করবো ভেবে পাচ্ছি না। শুনছি সব হাসপাতালে একই অবস্থা। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম বলেন, বাগেরহাট ম্যাটসের অধ্যক্ষ ডা. রকিব হত্যার প্রতিবাদ ও হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে চিকিৎসকদের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। তবে জরুরি ও কোভিড-১৯ সংশ্লিষ্ট সব চিকিৎসা বহাল রয়েছে। এছাড়া সব হাসপাতালে কালো পতাকা উত্তোলন ও চিকিৎসকরা কালোব্যাজ ধারণ করেছেন। ঘটনা পরবর্তীতে মামলা নিতে গড়িমসি করায় খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। তবে চিকিৎসকদের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, মূল আসামিসহ মামলার বেশিরভাগ আসামিকেই পুলিশ গ্রেফতার করায় আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন চিকিৎকরা। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, খুলনা মোহাম্মদনগরের পল্লবী সড়কের বাসিন্দা আবুল আলীর স্ত্রী শিউলী বেগমকে ১৪ জুন সিজারের জন্য ডা. রকিব খানের মালিকানাধীন রাইসা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকেল ৫টায় অপারেশন হয়। বাচ্চা ও মা প্রথমে সুস্থ ছিলেন। পরে রোগীর রক্তক্ষরণ হলে ১৫ জুন সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানের চিকিৎসকরাও রোগীর রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে না পেরে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে ১৫ জুন রাতে শিউলী বেগম মারা যান। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা ১৫ জুন রাত পৌঁনে ৯ টার দিকে রাইসা ক্লিনিকে গিয়ে ডা. রকিবকে লাথি, ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে তার মাথার পেছনে জখম হয়। তাকে প্রথমে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে শহীদ শেখ আবু নাসের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে ১৬ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ভাগ