করোনা: দিনে ৩০ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষার টার্গেট সরকারের

লোকসমাজ ডেস্ক॥ সংক্রমণ শুরুর পর তিনমাস পার হলেও দিনে ২০ হাজার নমুনা পরীক্ষার টার্গেটে পৌঁছানো যায়নি করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নমুনা পরীক্ষায় নতুন কৌশল নিচ্ছে সরকার। সংক্রমণ শুরুর তিন মাস পর এসে আরটিপিসিআর টেস্টের পাশাপাশি পরীক্ষার বিকল্প উপায় খোঁজা হচ্ছে। এখন দিনে ৩০ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষার টার্গেট নিতে চাইছে। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলা জানায়, সব জেলায় পিসিআর পরীক্ষা ল্যাব বসানোর পাশাপাশি অ্যন্টিজেন টেস্ট পদ্ধতি শুরু করার ব্যাপারে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে পরীক্ষার বিকল্প উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যেহেতু সংক্রমণের বিস্তার ঘটছে, এই অবস্থায় পিসিআর পরীক্ষা ওপর নির্ভরতা কমাতে অনেক বিলম্ব করা হচ্ছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর তিনমাস পার হলেও, দিনে ২০ হাজার নমুনা পরীক্ষার টার্গেটে পৌঁছানো যায়নি। সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটির একাধিক সদস্য করেন, সংক্রমণ এখন উর্ধ্বমুখী, এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব না হওয়ায় অনেক মানুষ ইতিমধ্যেই সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন, যার সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার এতদিন পিসিআর পরীক্ষার বাইরে অন্য কোন ব্যবস্থা বা বিকল্প কিছু করেনি। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকে র‌্যাপিড কিট টেস্টের বিরোধিতা করা হয়েছে। এখন দেশের বড় শহরগুলোর ল্যাবরেটরিতে পিসিআর মেশিনের মাধ্যমে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তারা প্রত্যেক জেলায় পিসিআর পরীক্ষার ল্যাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। এ পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুরুর পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা টেস্ট অবশ্যই বাড়াবো। সব জেলায় পিসিআর মেশিন দেয়া যায় কি-না এবং উপজেলা পর্যায়ে পরীক্ষার সহজ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা যায় কি-না, এর সঙ্গে আরও বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিকে পরীক্ষার সুযোগ দেয়া, এসব বিষয় আমরা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছি। এজন্য একটি পরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এই পরিকল্পনা তৈরি হয়ে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।” বাংলাদেশে যেহেতু সংক্রমণের তিন মাসের বেশি হয়েছে, সে কারণে অনেকের অ্যান্টিবডি ডেভলভ করে থাকতে পারে। সেটা নির্ণয়ের একটা সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য অধ্যাপক শাহ মনির বলেন, “পিসিআর ল্যাব বাড়িয়ে ৬০টি পর্যন্ত করা গেছে। আরও হয়তো কিছু বাড়ানো যাবে। কিন্তু ৩০ হাজার পরীক্ষা করার মতো পিসিআর ল্যাবের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে কি-না, তা নিয়ে সীমাবদ্ধতা আছে। তবে সরকার চেষ্টা করছে। কিন্তু চ্যালেঞ্জ হবে এটা করা। সুতরাং আমরা যদি বিকল্প কিছু বের করতে পারি, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।” সরকারের সঙ্গে নমুনা সংগ্রহের কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। এই সংস্থার নমুনা সংগ্রহের প্রকল্পের মোর্শেদা চৌধুরী বলেছেন, “পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু সেটা ধীরগতিতে। সেটা পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে বৃদ্ধি না করায় নমুনা সংগ্রহের পরেও রোগী শনাক্তের কাজে বিলম্ব হচ্ছে।’” বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এখন সংক্রমণের হারের সাথে পাল্লা দিয়ে পিসিআর পদ্ধতির পাশাপাশি পরীক্ষার বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া না হলে সংকট আরও বাড়বে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন, তারা বিকল্প উপায়ের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন সাতদিনের মধ্যেই বিষয়গুলো চূড়ান্ত করবেন।

ভাগ