খুলনায় ডা. রকিব হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৫

0

খুলনা সংবাদদাতা॥ খুলনার রাইসা ক্লিনিকের পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রকিব খানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি জমিরসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবারের বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে পৃথক স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে আবদুর রহিম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার রাতে ডা. রকিব হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি জমির, আবুল আলী, গোলাম মোস্তফা ও খাদিজাকে ঢাকার গাজীপুরের টঙ্গী এবং খুলনার রূপসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যে এজাহারভুক্ত চার আসামির মধ্যে তিনজন রয়েছেন। এর আগে বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে নিহতের ছোট ভাই খুলনা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। হত্যার ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৮-১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়।
এদিকে, ডা. আব্দুর রকিব খানের আসামিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবিতে খুলনায় মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। বুধবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) খুলনার ডাকে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। তবে এর আওতার বাইরে রয়েছে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও করোনা হাসপাতাল।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম জানান, বাগেরহাট ম্যাটসের অধ্যক্ষ ডা. রকিব হত্যার প্রতিবাদে বিএমএ খুলনা শাখার আহ্বানে মিলন চত্বরে সর্বস্তরের চিকিৎসকদের বিক্ষোভ সমাবেশ ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে কর্মসূচি শেষে এক সভায় চিকিৎসকদের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি থাকবে। তবে জরুরি ও কোভিড-১৯ সংশ্লিষ্ট সব চিকিৎসা বহাল থাকবে। ঘটনা পরবর্তীতে মামলা নিতে গড়িমসি করায় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করতে হবে। সব হাসপাতালে কালো পতাকা উত্তোলন ও চিকিৎসকদের কালো ব্যাজ ধারণ করেছে।
উল্লেখ্য, খুলনার মোহাম্মদ নগরীর পল্লবী সড়কের বাসিন্দা আবুল আলীর স্ত্রী শিউলী বেগমকে ১৪ জুন সিজারের জন্য রাইসা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকেল ৫টায় অপারেশন হয়। বাচ্চা ও মা প্রথমে সুস্থ ছিলেন। পরে রোগীর রক্তক্ষরণ হলে ১৫ জুন সকালে খুলনা মেডিক্যার কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানের চিকিৎসকরাও রোগী রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে না পেরে ঢাকায় স্থানান্তর করে। ঢাকায় নেওয়ার পথে ১৫ জুন রাতে শিউলী বেগম মারা যান। এ ঘটনায় নিহত রোগীর স্বজনরা ১৫ জুন রাত পৌঁনে ৯টার দিকে রাইসা ক্লিনিকে গিয়ে ডা. রকিবকে লাথি ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে তার মাথার পেছনে জখম হয়। তাকে প্রথমে গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে শহীদ শেখ আবু নাসের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে ১৬ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।