স্টাফ রিপোর্টার ॥ দ্ইু বছর আগে যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে যুবলীগ নেতা আরাফাত মুনাফ লিটন হত্যার ঘটনায় আলোচিত কালা সাঈদকে এক সপ্তাহ আগে আটক করে সিআইডি পুলিশ। বর্তমানে কালা সাঈদ কারাগারে আটক রয়েছেন। তবে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কাছ থেকে লিটন হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বজনেরা।
আটক কালা সাঈদের আসল নাম এস এম ইউসুফ। তিনি ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের এস এম আজাদের ছেলে। গত ১১ জুন সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর হারুন অর রশিদ তাকে ঘোপ এলাকা থেকে আটক করেন। যুবলীগ নেতা আরাফাত মুনাফ লিটন হত্যা মামলায় আটক দেখিয়ে পরদিন আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নিহতের স্বজনেরা জানান, ২০১৮ সালের ২২ জুন রাত ৯ টার দিকে ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের আঞ্চলিক যুবলীগ অফিসের ভেতর ঢুকে সন্ত্রাসীরা লিটনকে ছুরিকাঘাত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর থেকে ঢাকায় নিয়ে যাবার সময় পথে মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই রমজানুল ইসলাম পিন্টু কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার তৎকালীন এস আই আমিরুজ্জামান এ মামলায় রেজোয়ান নামে এক যুবককে আটক করে আদালতে সোপর্দ করলে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। রেজোয়ান ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের আলমগীর হোসেনের ছেলে।
তার জবানবন্দি থেকে জানা যায়, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী সুজন ছিনতাই কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তাকে এ ধরনের কাজে নিষেধ করার জন্য তার পিতা পান আক্তারকে বলেছিলেন লিটন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কালা সাঈদের কাছে লিটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন পান আক্তার। এ সময় কালা সাঈদ যুবলীগ নেতা লিটনকে মেরে ফেলার জন্য তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি একথাও বলেছিলেন,‘যেভাবে হোক লিটনকে হত্যা করে ফেল। টাকা যা লাগে আমি দেব’। স্বজনেরা অভিযোগ করেন, কোতয়ালি পুলিশ এ মামলার চার্জশিট দিলেও ‘হুকুমদাতা ও অর্থদাতা’ কালা সাঈদের নাম বাদ দেয়। ফলে বাদী আদালতে নারাজি দিলে বিচারক মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডি পুলিশকে আদেশ দেন। কিন্তু সিআইডি পুলিশ গত ১১ জুন ‘হুকুমদাতা ও অর্থদাতা’ কালা সাঈদকে আটক করলেও আদালতে তার রিমান্ড আবেদন করেনি। এর পেছনে প্রভাবশালী মহলের তদবির রয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। স্বজনেরা জানান, কালা সাঈদকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে লিটন খুনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর হারুন অর রশিদ জানান, ১৬৪ ধারার আসামি (এক আসামির আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নাম প্রকাশ পায়) কালা সাঈদ। এ জন্য তাকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন। তার রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়নি।



