এমপি রণজিত পরিবারের ৩ সদস্যসহ একদিনে যশোরে আক্রান্ত ২৫ জন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গতকাল যশোর-৪ (অভয়নগর-বাঘারপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য রণজিত কুমার রায়ের ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনীসহ ৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে রণজিত কুমার রায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ নিয়ে গতকাল যশোরে ২৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত তালিকায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী, স্বাস্থ্যকর্মী, চাকরিজীবী ও কৃষক রয়েছেন। যশোর সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানিয়েছেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হতে গতকাল ১শ’ ৩৮টি নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। তার ভেতর কোভিড-১৯ সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৫ জন। এ নিয়ে যশোরে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২শ’ ৬৮ জন। গতকাল আক্রান্ত ২৫ জনের ভেতর শহরের রেল রোড টিবি কিনিক মোড় এলাকায় এমপি রণজিত রায়ের পরিবারের ৩ জন। তার ৩৫ বছর বয়সের ছেলে, ২৭ বছর বয়সের পুত্রবধূ ও ৩ বছর বয়সী নাতী আক্রান্ত হয়েছেন। এ ৩ জন ছাড়াও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের দামুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ৩৫ বছর বয়স্ক এক কারারক্ষী রয়েছেন। তিনি কারাগারের স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস করেন। অপরজনের বাড়ি যশোর শহরতলীর বিরামপুরে। ৩০ বছর বয়স্ক ওই ব্যক্তি রাজবাড়িতে একটি এনজিওতে চাকরি করেন। গত ১৩ জুন তিনি বাড়িতে এসে পরদিন নমুনা দেন। যশোর সদর উপজেলায় গতকাল ৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। চৌগাছা উপজেলায় এক গৃহবধূ আক্রান্ত হয়েছে। ৪৫ বছর বয়স্ক ওই গৃহবধূর স্বামী কুয়েত প্রবাসী। বাড়িতে এসে স্বামী আক্রান্ত হন। পরে আক্রান্ত হলেন স্ত্রী। কেশবপুরে ২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। একজন ৩৬ বছর বয়স্ক নারী স্বাস্থ্যকর্মী। মির্জানগর কমিউনিটি কিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার। তার বাড়ি মির্জানগর গ্রামে। আক্রান্ত ৪৪ বছর বয়স্ক কৃষক বাড়ি উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামে। শার্শা উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ বছর বয়সের একজন কৃষক। তার বাড়ি বসন্তপুরে। মনিরামপুর উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ জন। ২৮ বছর বয়স্ক ওই যুবক অভয়নগর এসিল্যান্ড অফিসে চাকরি করেন। আক্রান্তের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি অভয়নগর উপজেলায়। ২৫ জনের মধ্যে এ উপজেলায় স্বামী-স্ত্রী ও ছেলেসহ ১৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অভয়নগর পালপাড়ায় রায় পরিবারের ৩ জন আক্রান্ত হন। ৬০ বছর বয়স্ক স্বামী, ৫৫ বছর বয়স্কা স্ত্রী ও ২২ বছর বয়স্ক পুত্র রয়েছে ওই একই পরিবারে। নওয়াপাড়া পৌরসভার ৯ নং রাজঘাটের দু’সহোদর করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের একজনের বয়স ৩৩ বছর। অন্যজনের বয়স ৩৫ বছর। বড় ভাই সরদার জুট মিল ও ছোট ভাই যশোর জুট মিলে চাকরি করেন। আক্রান্ত নর্থ বেঙ্গল টেক্সটাইল এলাকার আক্রান্ত ৪৮ বছর বয়স্ক ব্যক্তি ব্যবসা করেন। গুয়াখোলা গ্রামের ৪৬ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি স্টেশনারী দোকানদার, ৫৫ বছর বয়স্ক ব্যক্তি পেশায় একজন দলিল লেখক। নওয়াপাড়া স্টেশনবাজার এলাকার ১৬ বছর বয়সের একক ছাত্র করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত ৭৭ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তির বাড়ি উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের দেয়াপাড়া গ্রামে। তিনি কৃষি ও ব্যবসার সাথে জড়িত। থাকেন তিনি দাওয়াপাড়ায় বসবাস করেন। রাজঘাট জাফরপুরের ৬০ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি কৃষি কাজের সাথে জড়িত। তিনি অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসবাস করেন। উপজেলার বুইকরা গ্রামে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ নারীসহ ৪ জন। আক্রান্ত ৫৫ বছর বয়স্ক ওই নারী পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগে চাকরি করেন। আক্রান্ত অপর তিন জনের ভেতর ৫৬ বছর বয়স্ক ব্যক্তি খুলনা খালিশপুর উপজেলা প্রকৌশল অফিসে চাকরি করেন। ৫৬ বছর বয়স্ক অপর একজন অভয়নগরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা। ২৫ বছর বয়স্ক অন্যজন ব্যবসায়ী। যশোর সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, এছাড়াও ২টি রিটেস্ট ও ২টি ফলোআপ নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে। নতুন করে করোনা পরীক্ষার জন্য গতকাল ৪৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

ভাগ