স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ ১৭ জুন প্রগতিশীল বাম আন্দোলনের যশোরের প্রবাদ পুরুষ আলমগীর সিদ্দিকীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৭ সালের এই দিনে উত্তরবঙ্গের জেলাশহর নওগাঁর একটি আবাসিক হোটেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট তার জীবনাবসান হয়। এই সময় তিনি রাজনৈতিক সফরে ছিলেন। আলমগীর সিদ্দিকী ছিলেন এদেশের শোষিত নিপীড়িত ভুকানাঙ্গা মানুষের মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত এক মহান পুরুষ। যশোরের এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি অতিক্রম করেছিলেন পারিবারিক ও ব্যক্তি সুযোগ-সুবিধার পরিধিকে অতিক্রম করে মিশে গিয়েছিলেন ভুকানাঙ্গা মানুষের মিছিলে।
ছাত্রজীবনে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগে যোগদান করেন। স্বীয় মেধা, দেশত্ববোধ ও প্রখর বুদ্ধিমত্তার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে তিনি ঐ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে বিবেচিত হন। প্রগতিমনা চেতনায় ঐ সময় তিনি নিজ হাতে গড়া মুসলিম ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের পদ ছেড়ে কমিউনিটি পার্টির সদস্য হন। ১৯৪৮ সালে যশোর কমিউনিটি পার্টির নেতৃত্বে গড়ে ওঠে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সংগ্রাম। ঐ সংগ্রাম পরিষদের তিনি আহ্বায়ক মনোনীত হন। মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত দলে যোগদান করেন। বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদ দলের জন্ম দেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)। তিনি এই সংগঠনের যশোর জেলা সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আলমগীর সিদ্দিকী শুধু রাজনৈতিক অঙ্গণেই নয়, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক, সমাজসেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়াঙ্গণে ছিল তার উজ্জ্বল পদচারণা।





