নমুনা পরীক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে যবিপ্রবি পরিস্থিতি সামাল দিতে সংগ্রহে ভাটা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার হিড়িক পড়েছে যশোরে। কিন্তু সে তুলনায় এখানে পরীক্ষাগার নেই। ফলে, অতিরিক্ত নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্য বিভাগ নমুনা সংগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে প্রথমে যশোর জেলার নমুনা পরীক্ষা করা হতো। বর্তমানে খুলনা বিভাগের ৬টি জেলার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেখান থেকে প্রচুর সংখ্যক নমুনা পাঠানো যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে নমুনার স্তুপ পড়ে যাচ্ছে। যা কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা করে শেষ করতে পারছেন না।
এদিকে, অতিরিক্ত নমুনা পড়ে থাকার কারণে তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সূত্র জানায়, সংগ্রহ করার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করা উত্তম। ভালোভাবে সংরক্ষণ করা গেলে সর্বোচ্চ ৫ দিন পর্যন্ত রাখা যায়। এরপর তার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।  স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাগণ জানিয়েছেন, যাতে নমুনার স্তুপ না হয় সে জন্যে কম নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এমনকি সাধারণের নমুনা সংগ্রহ না করে গতকাল যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে মাত্র ৭টিসহ সিভিল সার্জন অফিস মাত্র ১৩টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এ ব্যাপারে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে প্রতিদিন ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করে রিপোর্ট প্রদান করা যায়। সে মোতাবেক কাজ চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই পরীক্ষা করছেন। শত কষ্টের মধ্যেও তারা বসে নেই। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ ৬টি জেলা থেকে নমুনা পাঠানো হচ্ছে। এতে নমুনার স্তুপ হয়ে যাচ্ছে। সময়মতো পরীক্ষা করতে না পারলে এগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। তাই প্রত্যেককে কম সংখ্যক নমুনা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত ৫ শতাধিক নমুনা পরীক্ষার অপেক্ষায় ছিল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে। একইভাবে খুলনা মেডিকেল কলেজের ল্যাবে ও অতিরিক্ত নমুনা পরীক্ষার অভাবে পড়ে থাকছে বলে সূত্র জানিয়েছেন।

ভাগ