স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের ২০ ভাগ বরাদ্দের দাবি গণসংহতির

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে সম্পূর্ণ রিভিউ করে অন্তত ২০ ভাগ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে সবার চিকিৎসা নিশ্চিতে সাত দফা দাবিতে রাজধানীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ এসব কথা বলেন তিনি। জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমরা বিনা চিকিৎসায় আর একটি মানুষেরও মৃত্যু দেখতে চাই না। আজ আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংঘাত এড়িয়ে বিক্ষোভ করছি। কিন্তু পরিস্থিতির যদি বদল না ঘটে, তাহলে বিক্ষোভের ধরনও পাল্টে যাবে।’
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ১০ হাজার টাকার থোক বরাদ্দ ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে বেড়িয়ে আসার কোনও দিক নির্দেশনা নেই দাবি করে সাকি বলেন, ‘বাজেটের দিকে তাকালেই বোঝা যায় সরকার নাগরিকদের চিকিৎসা ও জীবন রক্ষা নিয়ে কতটুকু উদ্বিগ্ন।’ গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী বলেন, ‘৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। কিন্তু সরকার তখন গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি। তাদের সব মনোযোগ নিবদ্ধ ছিল মুজিব শতবর্ষের কর্মসূচিকে ঘিরে।’ ৪৯ দিনের কার্যকর লকডাউন বাস্তবায়ন করা গেলে আজকে এই পরিণতি হতো না বলে উল্লেখ করে সাকি বলেন, ‘সব রাষ্ট্রশক্তিকে কাজে লাগিয়ে দিনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল দুই কোটি পরিবারের দুই মাসের খাদ্য এবং ন্যূনতম পাঁচ হাজার করে টাকা পৌঁছে দিতে আমাদের লাগতো ৪০ হাজার কোটি টাকা। বিনিময়ে আমরা পেতাম একটি কার্যকর লকডাউন। কিন্তু গত তিন মাসে সাধারণ ছুটির নামে সরকার যে নাটক করেছে, তাতে প্রতিদিন তিন হাজার কোটি টাকা ধরলে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ হয়নি।’
জোনায়েদ সাকি তার বক্তৃতায় আরও বলেন, ‘সরকার উদ্যোগ নিলে মার্চ এবং এপিল মাসে দেশে অন্তত ১০ হাজার পিসিআর ল্যাপ স্থাপন করে ফেলতে পারতো। প্রতিদিন ৫০ হাজার থেকে এক লাখ পরীক্ষা করাতে পারলে দেশের পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারতো। আমাদের সৌভাগ্য হয়ে আসতে পারতো মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষকরা কিট উদ্ভাবন করলেন, যা দিয়ে স্বল্প খরচে এবং ন্যূনতম সময়ে অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা যেতো। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই কিটের অনুমোদন নিয়ে টালবাহান করা হচ্ছে।’ সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সাকি বলেন, ‘অবিলম্বে এই কিটের অনুমোদন না দেওয়া হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধু শেক মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ঘেরাও করা হবে।’
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে মিলিয়ে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জনের অফিসের সামনে গণসংহতি আন্দোলনের উদ্যোগে সাত দফা দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। তাদের দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— দ্রুততম সময়ে সারাদেশে অন্তত পক্ষে ৫০ হাজার পিসিআর টেস্টের সক্ষমতা তৈরি করা। হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সুবিধা নিশ্চিত। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুবিধা বাস্তবায়নে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য হেলথ কার্ডের ব্যবস্থা করা। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন— দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূইয়া, জুলহাসনাইন বাবু, কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট জান্নাতুল মরিয়ম তানিয়া, ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন প্রমুখ।