স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাজিয়ালী ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মুন্সী আনিচুর রহমানসহ ৪ পুলিশ সদস্যকে গত রোববার রাতে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া যশোর-চৌগাছা সড়কের আমবটতলায় চেকপোস্ট স্থাপনের অপরাধে তাদের ক্যাম্প থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে প্রত্যাহার করা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ‘কলেজছাত্রকে নির্যাতনের’ কোন প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ প্রশাসনের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম পিপিএম।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আমবটতলায় সাজিয়ালী ক্যাম্পের পুলিশ ইমরান হোসেন নামে একজন কলেজছাত্রকে ধাওয়া করে নিয়ে নির্যাতন চালায় বলে তার স্বজনেরা অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, সাজিয়ালী ক্যাম্পের এএসআই সুমারেশ সাহা ও এএসআই সাজদার রহমানসহ ৬ পুলিশ সদস্য তার ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন। নির্যাতনের কারণে ওই কলেজছাত্রের দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে এমন অভিযোগও করা হয়। ইমরান হোসেন সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের শাহাবাজপুর গ্রামের মাংস বিক্রেতা নিকার আলী ছেলে। স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ‘নির্যাতনের’ সংবাদটি প্রকাশিত হয়। ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়াতেও সংবাদটি প্রচারিত হয়। ফলে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘কলেজছাত্রকে নির্যাতনের’ অভিযোগের ঘটনাটি তদন্তে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির প্রধান ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক-সার্কেল গোলাম রব্বানী এবং সদস্য পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআই-ওয়ান ইনসপেক্টর মশিয়ুর রহমান ও কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসি মো. মনিরুজ্জামান। গত ১২ জুন শুক্রবার তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন পুলিশ সুপারের কাছে জমা দেন। তবে তদন্তে কলেজছাত্রকে পুলিশি নির্যাতনের কোন প্রমাণ পায়নি বলে ইতোপূর্বে কমিটির একজন সদস্য দৈনিক লোকসমাজকে জানিয়েছিলেন। এদিকে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর গত রোববার রাতে সাজিয়ালী ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মুন্সী আনিচুর রহমান, এএসআই সুমারেশ সাহা, এএসআই সাজদার রহমান ও কনস্টেবল ফারুক হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম পিপিএম জানান, করোনাকালে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া চেকপোস্ট বসানোর অপরাধে প্রশাসনিক কারণে ইনচার্জসহ ৪ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যহার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তদন্তে সাজিয়ালী পুলিশের বিরুদ্ধে কলেজছাত্রকে নির্যাতনের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অপরদিকে সাজিয়ালী ক্যাম্পের নতুন ইনচার্জ হিসেবে গত রোববার রাতে যোগদান করেছেন এসআই কামরুজ্জামান। এর আগে তিনি কেশবপুর থানায় সেকেন্ড অফিসার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। সাজিয়ালী ক্যাম্পে যোগদানের বিষয়টি স্বয়ং তিনিই নিশ্চিত করেছেন।





