যশোরে করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও একজনের মৃত্যু : আক্রান্ত ১৪

বিএম আসাদ ॥ গতকাল যশোরে রাজনৈতিক নেতা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ আরও ১৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২শ’ ৩০ জন। গতকাল করোনায় উপসর্গ নিয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। যশোর সিভিল সার্জন অফিসের এমওসিএস ডা. রেহনেওয়াজ জানিয়েছেন, গতকাল যশোরে নমুনা পরীক্ষার ১শ’ ৫১টি রিপোর্ট আসে। এর ভেতর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট আসে ১শ’ ৩১টি। আক্রান্ত হয়েছেন ১০ জন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হতে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসে ২০টি। আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪ জন। এ নিয়ে গতকাল মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ জন। যারা কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন যশোর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকায় নিজ বাসভবনে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রহিম মোড়ল ও হাসপাতালের ইসিজি বিভাগের এক কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ওই চিকিৎসক হাসপাতাল শহরের স্টেডিয়ামপাড়ায় ও স্বাস্থ্যকর্মী সরকারি সিটি কলেজ এলাকায় বসবাস করেন। শহরের বেজপাড়া এলাকার এক মুদি ব্যবসায়ী যশোর নতুন উপ-শহরের সি-ব্লক ও এ-ব্লকের দু’জন ব্যবসায়ী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। একজনের বাড়ি বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা গ্রামে। তিনি রাজবাড়ি ইউনিয়ন ব্যাংকে চাকরি করেন। যশোর সদর উপজেলায় ৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যশোরের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নারী চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি নিজ বাড়ি হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। আক্রান্ত অপরজন নারী গৃহিনী। তার বাড়ি শার্শায়। চৌগাছা উপজেলা ঋষিপাড়ায় এক নারী আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। তার স্বামী যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী। স্বামী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর স্ত্রী আক্রান্ত হলেন। ঝিকরগাছা উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ জন। একজন কৃষক। তার বাড়ি ঝিকরগাছা শহরের কৃষ্ণনগরে। এ উপজেলায় আক্রান্ত অন্যজনের বাড়ি যশোর উপশহরে হওয়ায় যশোর সদরে তার আক্রান্ত দেখানো হয়েছে। অন্যজনের বাড়ি ঝিকরগাছার গাজীর দরগাহ এলাকায়। কেশবপুরের বাজিতপুরে একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি ঢাকায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চাকরি করেন। গত ৮ জুন তিনি ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে আসেন। অভয়নগরের নওয়াপাড়ায় এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ওই ব্যক্তি ঢাকায় চাকরি করেন। তিনি নিজ বাড়ি থেকে ঢাকায় গিয়ে গত ১১ জুন প্রাইভেট কিনিকে ভর্তি হয়েছে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, যশোরে কোভিড-১৯ সংক্রমণের সংখ্যা কোন ক্রমেই কমছে না। বরং প্রতিতিন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যশোরের বিভিন্ন এলাকা রেডজোন, ইয়োলো জোন ও গ্রিণ জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, গত রোববার রাতে যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার দুর্গাপুরের হাবিবুর রহমান (৪৩) নামে এক ব্যক্তি করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবণ করেছেন। রাত ১১টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে গতকাল তার নমুনা পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এর আগে ৯ জুন শার্শায় তাকে পরীক্ষার জন্য নমুনা নেয়া হয়েছিল। সেখানে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্যপ্রকল্প কর্মকর্তা ডা. মো. ইউসুফ আলী সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং পুনরায় পরীক্ষার জন্য নমুনা নেন। মৃত্যের ভাই হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন। বুকে ব্যথা ছিল। বাসা থেকে শার্শার হাসপাতালে নেয়া হলে অবস্থার অবনতি ঘটে। রাত ৯টার দিকে যশোরে নেয়ার পথে গদখালী ও ঝিকরগাছার মাঝামাঝি স্থানে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর হাবিবুর ররমান মারা যান।

ভাগ