চৌগাছায় কপোতাক্ষ নদের সেতু সংযোগ সড়কে ভাঙন

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছার কপোতাক্ষ নদের উপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়কের একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় মুসলধারে বৃষ্টিপাতে এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়া হলে সেতু থেকে সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
চৌগাছা উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কপোতাক্ষ নদ। নারায়নপুর বাজারের পূর্ব পাশেই কপোতাক্ষ নদের বর্তমান সেতু স্থানের খেয়াঘাট একসময় ছিল এ অঞ্চলের মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। রোদ বৃষ্টি ঝড়কে উপেক্ষা করে যুগ যুগ খেয়া পার হয়ে এলাকাবাসী গন্তব্যে গেছেন। মানুষের সেই কষ্ট এখন লাঘব হয়েছে। খেয়াঘাটে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল একটি সেতু। যার নামকরণ করা হয় নারায়নপুর সেতু। এই সেতুটি নির্মাণ হওয়ার ফলে নারায়নপুর, পেটভরা, বকশিপুর, সুইতলা, ইলেশমারী, ভগমানপুর, গুয়াতলি, চাঁদপাড়াসহ পাশর্^বর্তী ঝিনাইদহের মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলার একাংশের মানুষের চলাচলে ফিরে আসে প্রাণ চাঞ্চল্যতা। একই অবস্থা সেতুর পূর্ব পাশের দেবীপুর, হাকিমপুর, পাতিবিলা, নিয়ামতপুর, মুক্তদাহ, মাঠচাকলাসহ কালীগঞ্জ উপজেলার একাংশের মানুষের ক্ষেত্রেও।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটি নদ ও মূল সড়ক থেকে অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি উঁচু করে নির্মিত হয়েছে। সেতুতে উঠা নামার জন্য সংযোগ সড়কও সেভাবে উঁচু করা হয়। সেতুর পশ্চিম পাশ অর্থাৎ নারায়নপুর বাজার সংলগ্ন সংযোগ সড়কের সমস্যা তেমন না হলেও ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে পূর্ব পাশের সংযোগ সড়কে। পাশর্^বর্তী হাকিমপুর ইউনিয়নের দেবিপুর হয়ে নদের পূর্ব পাশের মানুষ সেতুতে ওঠে। সেতু সংলগ্ন সড়কের দু’পাশেই রয়েছে বড় বড় বেশ কিছু পুকুর। যে কারণে সংযোগ সড়কের দু’পাশ একটু বৃষ্টি হলেই পুকুরের পানির দিকে ঝুঁকে যায়, যা এখনও বিদ্যমান আছে। সেতু ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার কিছুদিন যেতে না যেতেই এ সমস্যা দেখা দেয়। সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার তা মেরামতও করেন। কিন্তু গত ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সাথে অবিরাম বৃষ্টিপাতে সড়কটি তার আগের চেহারায় ফিরে গেছে। একই অবস্থা মূল সেতুর কাছেও। সেতুর ওপর জমে থাকা পানি সেতুর পূর্ব-দক্ষিণ কোণ দিয়ে নদে নামার কারণে সেখানে সৃষ্টি হয়েছে ভাঙন। এই ভাঙন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। খুব দ্রুত সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। নারায়নপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু সাঈদ, কলেজছাত্র হাবিবুর রহমান, ভ্যানচালক রাশিদুল ইসলাম, কৃষক সোহেল রানা, বকশিপুর গ্রামের আশরাফ হোসেন আশা, তবিবুর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, এ অঞ্চলের মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নারায়ানপুর সেতু। সেতুটি নির্মাণের সময় তুলনামূলক বেশি উঁচু করা হয়, সে কারণে ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে সেতুতে উঠানামা করতে হয় বলে জানান এলাকাবাসী। সংযোগ সড়কে যে ভাঙন দেখা দিয়েছে তা দ্রুত মেরামত করা দরকার, অন্যথায় এমন একসময় আসবে মানুষ ইচ্ছা করলেও সেতুটি ব্যবহার করতে পারবে না। এ বিষয়ে নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন মুকুল বলেন, সম্প্রতি ঝড় ও বৃষ্টিপাতের কারণে সেতুর পূর্ব পাশের সংযোগ সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হবে। খুব দ্রুতই ভাঙ্গা স্থান মেরামত করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভাগ