এখনও পানিবন্দি সাতক্ষীরা উপকূলের ৪৮ গ্রাম

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা॥ তিন সপ্তাহ পেরোলেও সুপার সাইকোন আম্পানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সাতক্ষীরার উপকূলীয় আশাশুনি ও শ্যামগনর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ৪৮টি গ্রাম এখনও পানিবন্দি।এসব গ্রামের ৯০ হাজার মানুষ ২ থেকে ৩ ফুট পানির মধ্যে বসবাস করছেন। নদীর সাথে একাকার হয়ে এসব গ্রামের মধ্যে এখনও চলছে জোয়ারভাটা। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে কপোতা ও খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে এসব গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। কিন্তু প্রবল স্রোতের কারণে এখনো পর্যন্ত বেড়িবাঁধ মেরামত না হওয়ায় আশাশুনির প্রতাপনগর, শ্রীউলা এবং শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের ৪৮টি গ্রামের মধ্যে এখনও জোয়ারভাটা চলছে।
২০ মে বিশেষ ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সাতীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামের গোলাম রসুল, অজিয়ার রহমান ও নজরুল ইসলাম জানান, গত ২১ মে রাতে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে কপোতা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে তাদের গ্রাম তলিয়ে যায় ৩/৪ ফুট পানির নিচে। কিন্তু ঘটনার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ আজো মেরামত করতে পারেনি প্রশাসনসহ কোনো পই। ফলে নদীর সাথে গ্রাম একাকার হয়ে যাওয়ায় বসতবাড়িতে এখন জোয়ারভাটা খেলছে। প্রায় কোমর সমান পানির নিচে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে বলে জানান তারা।
এ ব্যাপারে প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন জানান, তার ইউনিনের চাকলা, প্রতাপনগর, কুড়িকাউনিয়া, কল্যানপুর ও দিজলারাইট গ্রামসহ ১৫ থেকে ১৬ গ্রাম সম্পুর্ন তলিয়ে আছে নদীর লবন পানিতে। গত ২১ মে রাতে ঘুর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে ভেঙে যাওয়া কপোতা নদীর বেড়িবাধটি মেরামতের জন্য বার বার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। নদীর স্রোত এতই প্রবল যে বাঁশ বা বালির বস্তা দিয়ে কোনো পানি ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তা রাখা যাচ্ছে না। সাথে সাথে জোয়ারে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এ উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের হাজরাখালী গ্রামের বানভাসি রুহুল আমীন সরদার, রফিকুল ইসলাম ও মোমিন আলী জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রায় ২০ দিন অতিবাহিত হলে গেল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাদের গ্রামের মানুষজন ২ থেকে ৩ ফুট পানির উপর বসবাস করছে। নদীতে জোয়ার উঠলে বসতবাড়িতেও পানি বেড়ে যায়। পরিবারের লোকজন নিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান তারা। গ্রামবাসী আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের রাতে খোলটেুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে তাদের হাজরাখালী গ্রামসহ পাশের মাড়িয়ালা, কোলা, বকচর, ঘোলা ও কলিমাখালী গ্রাম সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়। শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাকিল হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের ২১টি গ্রামের মধ্যে ১৬টি গ্রাম এখনো পানিবন্দি হয়ে আছে। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের রাতে খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে এসব গ্রাম তলিয়ে গেলেও তিগ্রাস্ত বেড়িবাঁধ মেরামত না হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ কোমর সমান পানির মধ্যে বসবাস করছে। এদিকে সাতীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ জানান, খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে তার ইউনিয়নের খেজুরহাটি, ঝাপালি, জয়নগর ও কাশিমাড়িসহ ৬টি গ্রাম পানিতে ডুবে আছে। তিনি জানান, এসব গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কোনোভাবেই ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ মেরামত বা সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা জানান, সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ উপজেলার প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নে ৪২ গ্রাম সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে আছে। এ দুটি ইউনিয়নে ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কিন্তু খোলপেটুয়া ও কপোতা নদীর ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ মেরামত না করা পর্যন্ত এসব মানুষের দুর্ভোগ কমবে না। তিনি বলেন, খোলপেটুয়া ও কপোতা নদীর বাধ টেকসই সংস্কারের জন্য একটি সুপারিশ পাঠানো হয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে।

ভাগ