আ. লীগ নেতার গুদাম থেকে উদ্ধারকৃত চালের উৎসের সন্ধানে নেমেছে পুলিশ

0

ফরিদপুর সংবাদদাতা॥ ফরিদপুরে গ্রেফতার হওয়া বহুল আলোচিত শহর আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের গুদাম থেকে উদ্ধার হওয়া ৬০ হাজার কেজি চাল উদ্ধারের ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। চালের উৎসের সন্ধানে নেমেছে পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। গত ৭ জুন দিবাগত রাত ২টা ২৫ মিনিট থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত শহরের বদরপুর এলাকায় সাজ্জাদের মালিকানাধীন সাউথ লাইন পরিবহনের বাস রাখার শেড ও ব্রাহ্মণকান্দায় তাদের বসত ঘরের শয়ন করে লকার থেকে ওই চাল ও বিদেশি অর্থ জব্দ করে পুলিশ। তাদের বাড়ি ও গুদাম তল্লাশি করে এক হাজার ২০০টি বস্তায় ৬০ হাজার কেজি চাল, ৩ হাজার ইউএস ডলার, ৯৮ হাজার ভারতীয় রূপী জব্দ করা হয়।
সাজ্জাদ হোসেন রবকত শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি এস বি কনস্ট্রাকশন নামে একটি ফার্মের স্বত্বাধিকারী এবং বরকত গ্রুপের প্রধান। এছাড়া তিনি জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি ছিলেন। ওই দিন রাতে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হওয়ার পর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বাস মালিক গ্রুপের সভাপতির পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ওই চাল এবং দেশি-বিদেশি বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় ইতিমধ্যে পুলিশের উদ্যোগে সাজ্জাদ হোসেন ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের নামে মামলা হয়েছে। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) বেলাল হোসেন বলেন, বরকত ও রুবেল বর্তমানে অস্ত্র আইনে দায়ের করা একটি মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে আছেন। ওই রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিশেষ মতা আইনে দায়ের করা এ মামলায় রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। বিশেষ মতা আইনে দায়ের করা এ মামলার তদন্ত করছেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবিরুল হক। তিনি মামলায় প্রাথমিক তদন্ত বিষয়ে কোন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
ফরিদপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ বলেন, শহরের বদরপুর এলাকায় সাজ্জাদ হোসেন বরকত মালিকানাধীন সাউথ লাইন পরিবহনের বাস রাখার শেডের মধ্যে ৬০ হাজার কেজি চাল উদ্ধারের খবর শুনে তিনি ঘটনা স্থলে গিয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, ওই গুদামে ৫০ কেজি করে চটের বস্তা ও পলিথিনের বস্তায় ওই চাল গুলি দেখতে পেয়েছেন। তবে চটের যে বস্তা গুলি সেখানে পাওয়া গেছে সেগুলি অনেক পুরোনো, ২০১৩ সালের সরকারি খাদ্য গুদামের সিল মারা। তিনি বলেন, চালগুলি বাজার থেকে কেনাও হতে পারে। তবে যে বিপুল পরিমাণ চাউল উদ্ধার হয়েছে তা কোন ব্যক্তির পে মজুদ করা আইন বিরুদ্ধ কাজ। ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম রেজা বলেন, উদ্ধারকৃত ওই চাল নিয়ে তদন্ত করার কোন নির্দেশনা তিনি পাননি। পুলিশ যে সময় চাল গুলি জব্দ করেন ওই সময় জেলার ভারপ্তাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা ও প্রোজেক্ট ইমপ্লিমেন্ট অফিসার (পিআইও) উপস্থিত ছিলেন। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, তিনি (সাজ্জাদ) কোন চালের ডিলার নন, তাই তার জিম্মায় এই বিপুল পরিমাণ চাল মজুদ রাখা অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বলেই ধারণা করা যায়। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে। প্রকৃত রহস্য অবশ্যই উদ্ঘাটিত হবে।