ঝিকরগাছা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের ঝিকরগাছায় আলোচিত এক নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে এক অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে একবার বিয়ে ও দু বার তালাক করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কাজী ইকরাম উদ্দিন ৪৯ দিনের ব্যবধানে ওই মেয়েকে ২ বার তালাক ও একবার বাল্যবিয়ে দিয়েছেন বলে প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী তার বিচার দাবি করেছেন। শনিবার এলাকাবাসী নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ের প্রমানাদিসহ স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, নাভারণ ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাক হোসেনের মেয়ে জিনিয়া খাতুন গত ৬ ফেব্র“য়ারি তার সাবেক স্বামী হাড়িয়া গ্রামের কবির হোসেনকে তালাক প্রদান করে। এর মাত্র ২১দিন পর ২৭ ফেব্র“য়ারি পার্শ্ববর্তী বায়সা গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে নজরুল ইসলামের সাথে কাজী ইকরাম উদ্দিন (যে সব সিলমোহর ওই অফিস থেকে সম্প্রতি উদ্ধার হয়েছে) নোটারি পাবলিকের মাধ্যেমে দেড় শ টাকার স্ট্যাম্পে বিয়ে দেন। বিয়ের মাত্র ২৮ দিন পর স্বামী নজরুল ইসলামকে ওই কাজীর মাধ্যমে আবারো তালাক দেয় জিনিয়া।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার নাভারণ ইউনিয়নের কুন্দিপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে বাবলুর রহমানের সাথে করিমালী আলিম মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী করিমালী গ্রামের জিন্নাত আলীর মেয়ে ইরানী খাতুন (১৩) কে বাল্যবিয়ে দেন। এ ঘটনায় আলোচিত কাজী ইকরাম উদ্দিনের বিচার দাবি করেছেন গ্রামবাসী। ঘটনার সাথে জড়িত আলমগীর হোসেন, তার ছেলে বাবলু, কাজী ইকরাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে শুক্রবার বিকেলে ইরানী খাতুনের পরিবার ঝিকরগাছা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানতে পেরে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমী মজুমদারের নির্দেশে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় অভিযুক্ত কাজী ইকরাম উদ্দিনের অফিস থেকে অসংখ্য স্বাক্ষরিত সাদা স্টাম্প, বেশকিছু জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধনসহ নোটারি পাবলিকের মাধ্যেমে বিবাহ পড়ানোর সিলমোহর উদ্ধার করেছেন। আজ সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে কাজী ইকরাম উদ্দিনের হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।





