বিএম আসাদ ॥ করোনার উপসর্গ নিয়ে যশোরের একজন বিশিষ্ট ঠিকাদারের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, গতকাল ব্যাংক অফিসার, পুলিশ, নার্নসহ আরও ১১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা এ্যাপোলো হসপিটালে লুৎফর রহমান নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। তিনি স্ত্রী, দু’পুত্র, ৩ ভাইসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার বাড়ি যশোর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেছনে লোন অফিসপাড়াস্থ উমেশ ঘোষ লেনে। তিনি যশোরের বিশিষ্ট ঠিকাদার ও আরএন রোডস্থ রহমান চেম্বারের মালিক। সম্মিলিনী ইন্সটিটিউশন মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ম্যানেজিং কমিটির প্রাক্তন সদস্য ছিলেন।
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে করোনার উপসর্গ নিয়ে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এ সময় গলায় ব্যথা, পাতলা পায়খানা, শ্বাসকষ্টসহ অন্য উপসর্গ ছিল তার। আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লুৎফর রহমানের অবস্থার অবনতি ঘটে। তখন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। রাত ৮টা ৪০ মিনিটে আইসোলেশন ওয়ার্ড হতে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয় এবং এরপর এ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা এ্যাপোলো হসপিটালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আরএম ও ডা. মো. আরিফ আহমেদ জানিয়েছেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে তিনি আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। যেহেতু বিকেলে ভর্তি হন, তাই করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ সংক্রমণের নমুনা সংগ্রহ করা যাযনি। এ অবস্থায় তিনি করোনায় আক্রান্ত কিনা বলা যাচ্ছে না। তবে করোনার উপসর্গ ছিল। মৃতের ছোট ভাই মো. নজিবর রহমান জানান, বাসায় পাতলা পায়খানা হচ্ছিল। গলায়ও ব্যথাও ছিল। যশোরের সিভিল সর্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, গতকাল (১২ জুন) যশোরে নতুন করে আরও ১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ৪ জনর, একজন ব্যাংক কর্মকর্তা, সেবিকা, ওয়ার্ড বয় ও একজন ব্যবসায়ী। অভয়নগর উপজেলায় মা, শিশুসহ ব্যবসায়ী, শার্শা উপজেলায় একজন পুলিশ সদস্য, ওষুধ ব্যবসায়ী ও মনিরামপুর উপজেলায় একজন সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এ তালিকায় যশোর ২৫০ গয্যা হাসপাতালের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও একজন ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন। সিনিয়র স্টাফ নার্স অপারেশন থিয়েটারে দায়িত্ব পালন করেন। গত সপ্তাহে মেহজাবিন সুলতানা অরিন নামে একজন চিকিৎসক আক্রান্ত হন। গত বৃহস্পতিবার ওই চিকিৎসক ঢাকা থেকে যশোরে এসে ওটিতে কাজ করেন। আলোচিত সিনিয়র স্টাফ নার্স তার সাথে ছিলেন। আক্রান্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স জানিয়েছেন, ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী ওয়ার্ড থেকে আক্রান্ত হয়েছেন। শহরের বেজপাড়ায় একজন আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি ব্যাংক অব এশিয়া যশোর শাখার অফিসার। শার্শা উপজলোয় আক্রান্ত হয়েছেন ২ জন। একজন পুলিশ। অপরজনের বেনাপোলে ওষুধের ব্যবসা করেন। ঝিকরগাছা উপজেলায় একজন ব্যবসায়ী আক্রান্ত হয়েছেন। অভয়নগরে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ জন। আক্রান্তদের ভেতর ৭ বছরের একজন শিশু রয়েছে। এর আগে তার মাতা আক্রান্ত হন। নওয়াপাড়া শহরে দুইজন এবং অভয়নগরে পল্লীতে এক গৃহবধূ আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। এ নিয়ে যশোরে মোট ১শ’ ৮২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ১শ’ জন সুস্থ হয়েছেন। ১৩ জন হাসপাতালে আইসোলেশনে এবং ৬৮ জন হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরীক্ষায় ২০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গতকাল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হতে ৬৬টি রিপোর্ট এসেছে। তার ভেতর করোনায় আক্রান্ত ১১ জন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হতে ১৫টি নমুনবা পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে। তাতে কেউ আক্রান্ত হয়নি।




