ঝুঁকি বাড়া সত্বেও সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ কমেছে

লোকসমাজ ডেস্ক॥ করোনায় দেশে সাধারণ মানুষের আয় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কিন্তু ঝুঁকি বাড়লেও প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণে বরাদ্দ আগের অর্থবছরের তুলনায় কমেছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। এই বরাদ্দ আগামী অর্থবছরের জন্য মোট বাজেটের ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। যা চলতি অর্থবছরে রয়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বলে এক নজরে বাজেটে সম্পদ বিভাজনে উল্লেখ করা হয়েছে। খাতভিত্তিক সম্পদ বিভাজনে (ভর্তুকি ও প্রণোদনা, পেনশনসহ) এই খাতে আগামী অর্থবছরের বরাদ্দ ৫ দশমিক ৬ শতাংশ দেয়া হয়েছে। যা চলতি অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দের সমান। চলতি অর্থবছর এই বরাদ্দ মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।
আর অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, আগামী অর্থবছরের (২০২০-২১) প্রস্তাবিত বাজেটে এই খাতে ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে; যা জিডিপির ৩ দশমিক ০১ শতাংশ এবং বাজেটের ১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা, বয়স্ক ভাতা বাড়ানো হয়েছে। সব দরিদ্র প্রবীণ ব্যক্তিকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রমের আওতায় প্রণোদনা দেয়া হবে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ৮১ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা; যা মূল বাজেটে ছিল ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। এটা জিডিপির ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ ছিল। দরিদ্র প্রবীণ বয়স্ক ভাতা : প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, করোনার কারণে সর্বাধিক দরিদ্রপ্রবণ ১০০টি উপজেলায় বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী সব দরিদ্র প্রবীণ ব্যক্তিকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা হবে। এতে করে ৫ লাখ জন নতুন উপকারভোগী যোগ হবে এই খাতে। এ জন্য বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রদান করা হবে।
বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা : করোনা মহামারীর কারণে সর্বাধিক দরিদ্রপ্রবণ ১০০টি উপজেলায় বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী সব বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতার আওতায় আনা হবে। এতে সাড়ে ৩ লাখ জন নতুন উপকারভোগী যোগ হবে। তাদের জন্য বরাদ্দ ২১০ কোটি টাকা।
অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা : প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণে সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী ২ লাখ ৫৫ হাজার জন নতুন করে সুবিধাভোগীতে যুক্ত হবে। ফলে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১৮ লাখ। এই খাতে এবারে ২২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন হবে বলে বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে। পল্লী সমাজসেবা প্রণোদনা : করোনার আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল করা এবং গ্রামে বসবাসরত দরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় মানুষের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরে পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রমের জন্য ১০০ কোটি টাকা প্রণোদনা প্রদান করা হবে। এ ছাড়াও দরিদ্র মায়ের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা, কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা, ভিজিডি কার্যক্রম, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ ভাতা এবং তাদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি ও প্রশিক্ষণ, ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার সিরোসিস রোগীদের সহায়তা, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি ইত্যাদি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ভাগ