পুলিশের আনা অভিযোগ খারিজ: সাংবাদিক কাজল ঢাকার মামলায় যশোর কারাগারে আটক আছেন

স্টাফ রিপোর্টার॥ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে পুলিশের আনা অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন বিচারক। গত ২০ মে পুলিশের ৫৪ ধারার প্রতিবেদন পাবার পর যশোরে অন্যকোন মামলার না থাকায় খারিজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাজলের আইনজীবী দেবাশীষ দাস। একই সাথে তিনি অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলায় জামিনে রয়েছেন। তবে ঢাকায় থাকা তিনটি তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় তিনি যশোর কারাগারে আটক আছেন।
গত ৩ মে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে সাংবাদিক কাজলকে আটক করে বিজিবি সদস্যরা। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা করে বিজিবি। এই মামলায় তাকে যশোরের আদালতে পাঠায় বেনাপোল থানা পুলিশ। পরে তিনি মামলাটিতে জামিন পেলেও কোতয়ালি থানা পুলিশের ৫৪ ধারার অভিযোগে কারাগারে পাঠায় আদালত। একই সাথে ১৯ মে শুনানি দিন ধার্ষ করা হয়েছিল। ১৭মে সাংবাদিক কাজলের আইনজীবী আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক শুনানি শেষে তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমার আদেশ দেন পুলিশকে। ২০ মে প্রতিবেদন পাবার পর যশোর জেলায় তার বিরুদ্ধে অন্য মামলা না থাকায় ৫৪ ধারার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর তুষার কান্তি খান জানান, ৫৪ ধারার অভিযোগে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল অব্যাহিত পেলেও ঢাকার তিনটি মামলায় তিনি আটক আছেন। প্রসঙ্গত, সাংবাদিক কাজল ১০ মার্চ সন্ধ্যায় ‘পকাল’-এর অফিস থেকে বের হন। এরপর থেকে তার কোনও সন্ধান না পেয়ে পরদিন ১১ মার্চ চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসি নয়ন। ১৩ মার্চ জাতীয় প্রেসকাবে সংবাদ সম্মেলন করে শফিকুল ইসলাম কাজলকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত দেওয়ার দাবি জানায় তার পরিবার। ১৮ মার্চ প্রেসকাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে সাংবাদিক কাজলের সন্ধান চাওয়া হয়। পরে ১৮ মার্চ রাতে কাজলকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগ এনে চকবাজার থানায় মামলা করেন তার ছেলে মনোরম পলক। সাংবাদিক কাজল নিখোঁজ হওয়ার পর তার সন্ধানের দাবিতে জাতীয় প্রেসকাবের সামনে কয়েক দফা কর্মসূচি পালন করেছেন তার সাংবাদিক সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা।

ভাগ