‘বছর শেষে আসতে পারে করোনার টীকা’

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব এলার্জি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজেস-এর পরিচালক ড. অ্যান্থনি ফাউসি বলেছেন, তিনি আশা করেন এ বছরের শেষ নাগাদ অথবা ২০২১ সালের প্রথম দু’এক মাসের মধ্যে কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের টীকা চলে আসবে। তবে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কত সময় স্থায়ী হবে সে বিষয়ে পরিষ্কার করে বলা যায় না। তা ছাড়া এ টীকা প্রতি বছর নিতে হবে কিনা সে বিষয়টিও পরিষ্কার নয়। বুধবার করোনা ভাইরাসকে তিনি তার জীবনের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক বলে আখ্যায়িত করেছেন। এদিন তিনি গুড মর্নিং আমেরিকা অনুষ্ঠানে দেয়া সাক্ষাতকারে এসব বলেছেন। তার মতে, করোনা ভাইরাসের টীকা আবিষ্কারের সব কিছু সঠিক পথে এগিয়ে চলছে। তিনি পূর্বাভাষ দেন যে, কোভিড-১৯ এর একাধিক টীকা আসবে। তবে সেগুলোর কার্যকারিতা কতদিন স্থায়ী হবে এবং অন্য ফ্লুর মতো প্রতি বছর তা ব্যবহার করতে হবে কিনা সে বিষয়ে পরিষ্কার করে বলা যাচ্ছে না।
তার ভাষায়, আমরা এই টীকা প্রথম ধাপে নেবো। আমরা এক্ষেত্রে আগে নিশ্চিত হতে চাইছি যে, এটা কতটা নিরাপদ এবং আসলেই এটা রোগ প্রতিরোধ করতে পারে কিনা। যদি রোগ প্রতিরোধ করে তাহলে তা কতটা সময় শরীরে স্থায়ী হয়। তাই আমরা স্পষ্টভাবে, নিশ্চিতভাবে পর্যবেক্ষণ করছি যে, যখন একটি টীকা তৈরি হচ্ছে, তাতেই কি সব শেষ হয়ে যাচ্ছে কিনা।
যে গতিতে করোনার টীকা আবিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তাতে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ বছরের শেষ নাগাদ এই টীকা তৈরি হয়ে যেতে পারে। প্রথমে পশু এবং পরে মানুষের ওপর এর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় প্রতিশ্রুতিশীল ফল পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই আমি আশা করি গ্রীষ্মের শুরুতে চলে আসতে পারে এই টীকা। যদি এসব প্রক্রিয়া ঠিকঠাকভাবে এগিয়ে যায়, তাহলে এই টীকার নিরাপদ ব্যবহার ও কার্যকারিতার বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পর্যাপ্ত তথ্য পাবো।
ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য এরই মধ্যে খুলে দেয়া হয়েছে। আস্তে আস্তে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে। তবে করোনা সংক্রমণ থেমে নেই। বিশেষ করে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মার্কিন যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার প্রতিবাদে যে ভয়াবহ বিক্ষোভ সৃষ্টি হয় তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে বিক্ষোভের স্থানগুলোতে মোতায়েন করা ন্যাশনাল গার্ডস-এর সদস্যদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ড. ফাউসি বলেছেন, অবশ্যই এসব সদস্য সংক্রমিত হওয়া হতাশার। তবে বিস্ময়ের নয়। তিনি বলেন, শারীরিক দূরত্বটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে মাস্ক সাহায্য করতে পারে। কিন্তু, শারীরিক দূরত্বের সঙ্গে মাস্ক ব্যবহার করলে এমন বিক্ষোভে কেউ একজন কিছুটা নিরাপদ থাকতে পারেন। তাই তিনি পুলিশি নৃশংসতা ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, অনেক রাজ্যে এমন বিক্ষোভ হয়েছে। ফলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেলে বিস্ময়ের কিছু থাকবে না।
আগের দিন তিনি করোনা সংক্রমণের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন। বলেছেন, এই চলমান মহামারি তার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ আতঙ্ক। এখনও তা শেষ হয়ে যায় নি। তার ভাষায়, মাত্র চার মাস সময়ের মধ্যে এই ভাইরাস পুরো বিশ^কে তছনছ করে দিয়েছে। তিনি বায়োটেকনোলজি ইনোভেশন অর্গানাইজেশনের ভার্চুয়াল কনফারেন্সে যোগ দিয়ে এ কথা বলেছেন। বুধবার নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। মারা গেছেন কমপক্ষে এক লাখ ১১ হাজার।