‘পুলিশের নির্যাতনের শিকার’ কলেজছাত্র ও পরিবারের অভিযোগ দুর্বল হচ্ছে ক্রমশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে কলেজছাত্র ইমরান হোসেনকে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগটি ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। জেলা পুলিশ প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি নির্যাতনের অভিযোগের তেমন কোন সত্যতা পায়নি বলেও তথ্য মিলেছে। ফলে এই কমিটি দু/একদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে যাচ্ছে। তদন্ত কমিটির একজন সদস্য এমনই তথ্য দিয়েছেন।
তদন্ত কমিটির ওই সদস্য জানান, তারা ভিকটিম ইমরান হোসেন, তার পিতা নিকার আলী, ইউপি সদস্য শাহাজান আলীর সাথে কথা বলেছেন। নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে তাদের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। ভিকটিম তাদেরকে (তদন্তকমিটিকে) গাঁজা সেবনের কথা স্বীকার করেছেন। আর ইউপি সদস্য শাহাজান আলী ভিকটিম ইমরানকে ছাড়ানোর জন্য পুলিশের কাছে তদবির করেননি বলে তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন। শাহাজান আলী আরো বলেছেন, ইমরানের পিতা নিকার আলী তার ছেলেকে ছাড়ানোর জন্য তদবির করতে অনুরোধ করেছিলেন। জবাবে তিনি বলেছিলেন,‘তোর ছেলে এর আগেও আটক হয়েছিল। এ ছেলে ভালো হবে না। পারলে বিয়ে দিয়ে দে’। সূত্র জানায়, আমবটতলায় আলমগীর হোসেন নামে প্রথমে যে পল্লী চিকিৎসক তাকে (ইমরানকে) চিকিৎসা দিয়েছিলেন তারও সাক্ষ্য নিয়েছে তদন্ত কমিটি। আলমগীর হোসেন কমিটিকে বলেছেন, ইমরানের শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তাকে পুলিশ নির্যাতন করেছে একথা ওই সময় ইমরান বলেননি। শুধু আলমগীর হোসেন নয়, বর্তমানে যিনি চিকিৎসা দিচ্ছেন সেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উবাইদুল কাদির উজ্জ্বলের বক্তব্য শুনেছে তদন্ত কমিটি। এই চিকিৎসক ইমরানের কিডনিতে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন। তাছাড়া ইমরানের কিডনিজনিত কারণে অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে ডা. উবাইদুল কাদির উজ্জ্বল তদন্ত কমিটিকে বলেছেন, অনেক আগে থেকে এ রোগের লক্ষণ শুরু হয়েছিল যা এখন ধরা পড়েছে। এছাড়া রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি যিনি আহত ইমরানকে উদ্ধারে সাহায্য করেছিলেন তারও সাক্ষ্য নিয়েছে তদন্ত কমিটি। সূত্রটি আরও জানায়, দু/একদিনের মধ্যে পুলিশ সুপারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। এরপর পুলিশ সুপার পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। উল্লেখ্য, সদর উপজেলার শাহাবাজপুর গ্রামের নিকার আলীর ছেলে কলেজছাত্র ইমরান হোসেনকে সাজিয়ালী ক্যাম্পের কয়েকজন পুলিশ সদস্য নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) গোলাম রব্বানীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি কমিটি এ ঘটনা তদন্ত করছেন।

ভাগ