শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের শার্শার অগ্রভুলোট সীমান্তে বাংলাদেশি এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বিএসএফের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার দুপুরে ইছামতি নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করে শার্শা থানার পুলিশ। এ সময় বিজিবি সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। নিহত শরিফুল ইসলাম (২৫) শার্শা উপজেলার অবয়বাস পিকে রাজগঞ্জ গ্রামের মৃত ইছাহক আলীর ছেলে।
একাধিক সূত্র জানায়, গত ৮ জুন সোমবার ভারতে যাওয়ার সময় শরিফুল শার্শা সীমান্তের ওপারে ভারতের ঝাউডাঙা বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যদের হাতে ধরা পড়েন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা বুকে গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করে। এরপর ওইদিনই তার (শরিফুল) পেট চিরে ইছামতি নদীতে ডুবিয়ে দেয়া হয়। গতকাল বুধবার শরিফুলের লাশ নদীতে ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশ প্রশাসনকে খবর দেন। পরে শার্শা থানার পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান এবং শরিফুলের লাশ উদ্ধার করেন। নিহতের স্বজনেরা জানান, বিএসএফ সদস্যরা তাকে গুলি করে হত্যার পর লাশ ইছামতি নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন। নিহতের চাচা ইউনুস আলী ও তার স্ত্রী মদিনা খাতুন জানান, শরিফুল অনেক আগে গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। গত সোমবার রাতে তিনি ভারতে যান। পরদিন অনেকে ভারত থেকে দেশে ফিরে আসলেও শরিফুল ফিরে আসেননি। এদিকে অপর একটি সূত্র জানায়, শরিফুল ইসলাম অবয়বাস পিকে রাজগঞ্জ গ্রামের গরু ব্যবসায়ী তাজুল ইসলামসহ অন্যদের সাথে চিংড়ি ও পাবদা মাছের ডিম আনতে ভারতে যান। এসময় বিএসএফ’র হাতে ধরা পড়েন শরিফুল। বিএসএফ তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। এ ব্যাপারে শার্শা থানা পুলিশের ওসি বদরুল আলম খান জানান, পুলিশ ও বিজিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শরিফুলের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া এখনই কিছু বলা যাবে না। ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মনজুর-ই-এলাহী জানান, সকালে বিজিবির একটি দল নদীতে লাশ ভাসতে দেখে শার্শা থানা পুলিশকে খবর দেয়। তারা লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছেন। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া এ মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়।




