যখন শোয়েব আখতারের নির্দেশ অমান্য করেছেন বাবর আজম

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’ খ্যাত শোয়েব আখতার ক্যারিয়ারজুড়ে গতির নেশায় মত্ত ছিলেন। ক্রিকেট বিশ্বে প্রথম বোলার হিসেবে একশ মাইল গতিতে বল করেছিলেন। খেলোয়াড়ি জীবনে মরণঘাতী সব বাউন্সারে বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানকে মাঠে শুইয়ে দিয়েছিলেন, রক্ত ঝরিয়েছেন। সেই শোয়েবের কথা অমান্য করে বসেন, অনুশীলনে থাকা এক পুচকে ক্রিকেটার। রাগিয়ে দেন রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেসকে। শোয়েবও তখন গতির ঝড়ে বাউন্সার দিয়ে উড়িয়ে দিতে চান সে ক্ষুদে ক্রিকেটারকে। তবে ত্রাতা হয়ে আসেন মুদাসসর নজর। বাঁচিয়ে দেন সে ক্ষুদে ক্রিকেটারকে। অবশ্য তখন না বাঁচালে পাকিস্তান বর্তমান সময়ে দলের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক বাবর আজমকে পেত কিনা সন্দেহ।
সম্প্রতি ক্রিকেট কমেন্টেটর হার্সা ভোগলের সঙ্গে ক্রিকবাজের অনলাইন আড্ডায় যোগ দেন বাবর। সেখানে শোয়েবকে মোকাবিলা করার সে গল্প তুলে ধরেন তিনি। বাবর জানিয়েছেন, তখন পাকিস্তান ‘এ’ বা ইমার্জিং দলের হয়ে সুযোগ পেয়েছিলেন বাবর। যেখানে বাবরদের ক্যাম্প চলতো সেখানে অনুশীলন করতে আসতো শোয়েব আখতার। তখন এই দ্রুতগতির পেসারকে নেটে খেলার সুযোগ হয়েছিল বাবরের। আর তারপর নির্দেশ অমান্য করা, শোয়েবের রেগে যাওয়া, বাউন্সার ছোঁড়ার পরিকল্পনা সব স্মৃতি মনে করে বাবর আজম বলেন, ‘আমি সবসময় ব্যাটিং করতে চাইতাম। পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার এক সিরিজে আমি বল বয় ছিলাম। তখনই প্রথমবারের মতো শোয়েব আখতারকে সামনাসামনি বল করতে দেখি আমি। তার রানআপ, অ্যাকশন, গতি- সত্যিই বিশেষ কিছু ছিল।’
‘আমার স্মরণে আসে, সেখানে একই সময় ইমার্জিং বা পাকিস্তান ‘এ’ দলের ক্যাম্প চলছিল। সেখানে অনুশীলন করার জন্য অনূর্ধ্ব-১৫ দল থেকে আমাদের কয়েকজনকে তাদের সঙ্গে অনুশীলনে ডাকা হয়েছিল। মুদাসসর নজর ছিলেন সেখানে, তিনি আমাদের আগে ব্যাটিং করতে দিতেন। যাতে বোলাররা নিজেদের গা গরম করে নিতে পারত।’ ‘সেখানে প্রায়ই শোয়েব আখতারও আসতেন। একদিন তিনি এসে একজন ব্যাটসম্যান দিতে বললেন, তখন মুদাসসর আমাকে পাঠালেন তার সঙ্গে নেটে। আমি খুব রোমাঞ্চিত ছিলাম, তড়িঘড়ি করে নেটে চলে গেলাম। শোয়েব আমাকে বললেন, দেখো বাচ্চা, আমি ফুল লেন্থে বল করব, তুমি শুধু ডিফেন্স করবে। আমি বললাম, ঠিক আছে।’ ‘আমি দুই বল ডিফেন্স করে তৃতীয় বলে ড্রাইভ খেলে ফেলি। এমনটা করতেই থাকলাম। দুই বল ডিফেন্স, পরের বলে ড্রাইভ। শোয়েব রেগেমেগে বললেন, আমাকে একটা নতুন বল দাও, ওকে (বাবর) দেখাচ্ছি মজা। সঙ্গে সঙ্গে মুদাসসর ভাই আমাকে বললেন, তাড়াতাড়ি নেট থেকে সরে যাও, না হয় তোমাকে মেরেই ফেলবে। পরে তিনিই আমাকে নেট থেকে নিয়ে যান।’ ‘যাইহোক, এ ঘটনার পরে যতবারই তিনি (শোয়েব) নেটে বোলিং করতে আসতেন, আমাকে ব্যাটিংয়ের জন্য ডাকতেন। তিনি সবসময়ই ফুল লেন্থে বল করতেন। একদিন ভুলবশত একটা বাউন্সার করে বসেন। আমার সৌভাগ্য সেটি মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়।’

ভাগ