যশোরের এমপি রণজিৎ রায়সহ ১২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত

বিএম আসাদ॥ যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) বাবু রণজিৎ কুমার রায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে সিএমএইচ-এ ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় যশোর শহরের রেল রোডস্থ তার বাসভবনের সকলকে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তিনিসহ গতকাল যশোর জেলায় ১২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের ভেতর অভয়নগরেই ১০ জন। জেলা প্রশাসন সেখানে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে এলাকাভিত্তিক লকডাউন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন এবং সদর উপজেলা ইউএইচএফপিও ডা. আবু মাউদ জানিয়েছেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব. জেনোম সেন্টার থেকে গতকাল ৮৬টি নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। এর ভেতর যশোর সদরে ২ জন ও অভয়নগরে ১০ জন করোনায় আক্রান্ত বলে রিপোর্ট দেয়া হয়। যশোর সদর উপজেলার ২ জনের ভেতর একজন যশোর-৪ আসনের (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) সংসদ সদস্য বাবু রণজিৎ কুমার রায়। তাকে গত রোববার গভীর রাতে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) এ ভর্তি করা হয়েছে। এদিন তার পরিবারের আরও ৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তারা সকলেই করোনামুক্ত। শহরের রেল রোডস্থ টিবি কিনিক মোড় এলাকায় তার বাসভবনে পরিবারের সকল সদস্যকে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার বাড়ি শহরের পুরাতন কসবায়। তাকে টিবি হাসপাতালের আইসোলেশনে স্থানান্তর করা হয়েছে। আক্রান্ত অপর ১০ জন অভয়নগর উপজেলার। এদের মধ্যে অভয়নগরের চলিশিয়া ইউনিয়নের বাগদাঁ গ্রামের একই পরিবারের ৫ জন রয়েছেন।
এছাড়া রয়েছে শরণখোলা গ্রামের এক নারী (৩৪), শ্রীধরপুর ইউনিয়নের দিয়াপাড়া গ্রামের একজন পুরুষ (৩৮), নওয়াপাড়ার একজন নারী (৫৯) ও একজন পুরুষ (৬৫) রয়েছেন এবং মুক্তা নামে এক নারী। তবে ঠিকানা বা মোবাইল নম্বর না থাকায় যশোরের সিভিল সার্জন তাকে আক্রান্তের তালিকায় আনেননি। তাকে বাদ দিয়ে ১১ জনকে করোনায় আক্রান্ত বলে পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে যশোর জেলায় গতকাল পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১শ’ ৫৪ জন। উপজেলাওয়ারি আক্রান্তের সংখ্যায় জেলার সব উপজেলা ছাড়িয়ে গেছে অভয়নগর উপজেলা। এ উপজেলায় সর্বমোট ৩৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সদর উপজেলায় ১৮ জন, চৌগাছা উপজেলায় ১৬ জন, শার্শা উপজেলায় ১৫ জন, কেশবপুর উপজেলায় ১৩ জন, মনিরামপুর উপজেলায় ১১ জন, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৮ জন, বাঘারপাড়ায় ৩ জন এবং ২৫০ শয্যা হাসপাতালের নমুনা পরীক্ষায় ৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের দিক দিয়ে অভয়নগর উপজেলা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হওয়ায় যশোরের জেলা প্রশাসন সেখানে এলাকাভিত্তিক লকডাউন করার কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, অভয়নগরে যে সব এলাকায় বেশি সংখ্যক লোক করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন, সে সব এলাকায় করোনা আর যাতে না ছড়ায় সে জন্য লকডাউন করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সাথে করোনার বিস্তাররোধে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
এদিকে, কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরীক্ষার জন্য গতকাল আরও ৯২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। তার শরীরে করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ সংক্রমণ হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। গতকাল তিনি অফিস করেননি। জানা গেছে, তিনি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যশোরের কেশবপুরে নিজ বাসভবনে অবস্থান করছেন।

ভাগ