স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে পুলিশের নির্যাতনে গুরুতর আহত কলেজছাত্র ইমরান হোসেনের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। জেলা পুলিশ প্রশাসনের গঠিত একটি তদন্ত কমিটির সদস্যরা গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কুইন্স হসপিটালে গিয়ে তার সাথে কথা বলেছেন। নির্যাতনের বিষয়ে তারা ইমরানের বক্তব্য শুনেছেন বলে তার মা বুলবুলি বেগম জানিয়েছেন। অপরদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক-সার্কেল গোলাম রব্বানীকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটি গঠনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ প্রশাসনের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
ইমরান হোসেনের মা বুলবুলি বেগম জানান, তার ছেলের অবস্থা আগের চেয়ে একটু ভালো। মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা হসপিটালে এসে তার ছেলের সাথে কথা বলেছেন। নির্যাতনের বিষয়ে তারা তার ছেলের বক্তব্য শুনেছেন। তিনি আরও বলেন, এর আগে সকালে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন হসপিটালে এসে খোঁজখবর নিয়ে গেছেন। ইমরান হোসেন জানান, ঘটনার দিন তিনি ভয়ে দৌড় দিলে পুলিশ তার পিছু নেয়। পরে পুলিশ তাকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এ সময় পুলিশ তাকে পা দিয়ে ‘চটকিয়েছিল’ বলে ইমরান হোসেনের অভিযোগ। তিনি আরও জানান, তার আগে কিডনির কোন অসুখ ছিলো না। পুলিশের নির্যাতনের কারণে তার এই অবস্থা। তবে এখন আগের চেয়ে তিনি এখন একটু ভালো অনুভব করছেন।
জেলা পুলিশ প্রশাসনের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনা তদন্তে কর্তৃপক্ষ ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। যার প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক-সার্কেল গোলাম রব্বানী। কমিটির অপর দু’সদস্য হচ্ছেন-কোতয়ালি থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান ও পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআই-ওয়ান ইনসপেক্টর মশিয়ুর রহমান। এই কমিটিকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্য পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআই-ওয়ান ইনসপেক্টর মশিয়ুর রহমান জানান, তারা ঘটনার তদন্তে মঙ্গলবার বিকেলে হসপিটালে গিয়েছিলেন। ওই যুবকের সাথে কথা বলেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় কাউকে সাজিয়ালী পুলিশ ক্যাম্প থেকে প্রত্যাহার করা হয়নি। সাজিয়ালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মুন্সী আনিচুর রহমান জানান, গত সোমবার রাতে কোতয়ালি থানার ওসি এলাকায় এসেছিলেন। তিনি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। উল্লেখ্য, সদর উপজেলার শাহাবাজপুর গ্রামের নিকার আলীর ছেলে কলেজছাত্র ইমরান হোসেনকে গত ৩ জুন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে ধাওয়া করে নিয়ে স্থানীয় সাজিয়ালী ক্যাম্পের পুলিশ নির্যাতন করে। এএসআই সুমারেশ সাহা ও এএসআই সাজদার রহমানসহ ৬ পুলিশ সদস্য তাকে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। এর ফলে ইমরান হোসেনের দুটি কিডনি বিকল হয়ে জীবনাশঙ্কা তৈরি হয়েছে এমন অভিযোগ তার পরিবারের। আহত ইমরান হোসেন বর্তমানে কুইন্স হসপিটালের ৪০৬ নম্বর রুমে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।





