কালিয়ায় ইবাদ হত্যা : মাদকাসক্ত স্বামীকে হত্যা করে দেহ ব্যবসায়ী স্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ফুলদহ গ্রামের ভ্যানচালক ইবাদুল ইসলাম ওরফে ইবাদ শেখ (৩৬) হত্যার শিকার হয়েছেন। তার স্ত্রী আমেনা বেগম (৩০) তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই যশোরের কর্মকর্তারা গত সোমবার তাকে আটক করলে তিনি স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকারও করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার আমেনা বেগমকে নড়াইলের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পিবিআই যশোর ইউনিটের ইনচার্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন পিপিএম জানান, ইবাদ শেখ কালিয়া উপজেলার ফুলদহ গ্রামের সবুর শেখের ছেলে। গত ১০ মে সকালে একই উপজেলার জামতলা গ্রামে শ্বশুরবাড়ির পাশ থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে এ ঘটনায় কালিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। পরে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, ইবাদ শেখকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ফলে সন্দেহ হওয়ায় গত সোমবার নিহতের স্ত্রী আমেনা বেগমকে আটক করা হয়। আটকের পর তিনি স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এরপর তাকে আসামি করে কালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পিবিআই’র ওই কর্মকর্তা বলেন, ১৩/১৪ বছর আগে জামতলা গ্রামের মৃত ছিদ্দিক ফকিরের মেয়ে আমেনা বেগমের সাথে ইবাদ শেখের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি মেয়ে ও দু’টি ছেলে রয়েছে। কিন্তু ইবাদ শেখ ভ্যানচালক হলেও আসলে তিনি ছিলেন মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী। ফলে সংসারে উপার্জনের আর কোন মাধ্যম না থাকায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তির সৃষ্টি হয়। এক বছর আগে ইবাদ শেখ মাদক মামলায় আটক হলে তার স্ত্রী আমেনা বেগম তিন সন্তানসহ জামতলাস্থ তার বাবার বাড়িতে চলে যান। তিনি দেহ ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন। পরে কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ইবাদ শেখ মাঝে মধ্যে শ্বশুরবাড়িতে যাতায়াত করতেন। গত ৯ মে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে তিনি জামতলায় শ্বশুরবাড়িতে যান। কিন্তু তার স্ত্রী তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য তাকে চাপ দিতে থাকেন। কারণ, তার স্ত্রীর দু’জন খরিদ্দার আসার জন্য যোগাযোগ করছিলেন। কিন্তু ইবাদ শেখ সেখানে থাকার কারণে তারা আসতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, ইবাদ শেখ ওইদিন মাদক সেবন করেছিলেন। তিনি রাতে শ্বশুরবাড়িতে ছেড়ে চলে যেতে চাচ্ছিলেন না। এক পর্যায়ে আমেনা বেগম তাকে ধাক্কা মেরে ঘরের বাইরে ফেলে দেন। মাটিতে পড়ে গেলে ইবাদ শেখ এ সময় বলেন, ‘আমি বাইরে থাকতে হলেও থাকবো’। তখন আমেনা বেগম ফের তাকে জোরে ধাক্কা দিলে ইবাদ শেখ বাড়ির পাশের একটি সুপারি গাছের সাথে ধাক্কা খান। মাথায় আঘাত লাগলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাছাড়া অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে তার শরীর অনেক দুর্বলও ছিল। এ সময় আমেনা বেগম তার স্বামীর কোমরে থাকা গামছা খুলে তারই গলায় বেঁধে কোনমতে টেনে সুপারি গাছের সাথে বাঁধা বাঁশের সাথে ঝুলিয়ে দেন। এর ফলে তার মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে সেখান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

ভাগ