রামপাল হতে বেলাই ব্রিজ পর্যন্ত পাকা রাস্তা নির্মাণ দুই বছরেও সম্পন্ন হয়নি

এম. এ সবুর রানা, রামপাল (বাগেরহাট)॥ বাগেরহাটের রামপাল থেকে বেলাই ব্রিজ পর্যন্ত পাকা রাস্তা নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সময় ক্ষেপনের অভিযোগ উঠেছে। রামপাল সদর থেকে মোংলা বন্দরে সহজভাবে যাতায়াতের জন্য ওই এলাকার মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওই রাস্তা নির্মিত হলে মোংলা বন্দরসহ আশপাশের মানুষের চলাচলে সময় বাঁচবে এবং প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তার দূরত্ব কমবে। অথচ রাস্তাটি নির্মাণে ধীরগতির কারণে এলাকার শত শত মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৭২ হাজার ১৮৫ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন রাস্তাটি ২০১৮ সালের ৩ মে শুরু হয়। ২০১৯ সালের ২ মে রাস্তার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু এর মাঝে মেয়াদ বাড়িয়েও এখনও পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়নি।
রামপাল এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৫ কিলোমিটার লম্বা রাস্তাটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এ জলিল খান বাস্তবায়ন করছেন। গত ৩ মে ২০১৮ এ পাকা রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। যা ২ মে ২০১৯ তারিখে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। এরপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সময় বাড়ানোর আবেদন করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। এরপরও বর্ধিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি কাজ না করে ফেলে রাখায় এলাকার মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যত্রতত্র রাস্তায় ইট ও খোয়া ফেলে রাখায় চলাচলে চরম অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। নির্র্দিষ্ট সময়সীমার পরও ১৩ মাসের বেশি অতিবাহিত হলেও নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. জিয়াউর রহমান সাথে তার ব্যবহৃত ০১৭১১-৯৫০৪৬৮ নম্বর মুঠোফোনে কথা বলার জন্য বারবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. গোলজার হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাস্তাটি সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও গড়িমসি করছে। সময় বৃদ্ধির ব্যাপারে ওই কর্মকর্তা জানান, নতুন করে সময় বৃদ্ধির পরও তারা নির্মাণ সম্পন্ন করতে পারেনি। জনদুর্ভোগ ও রাস্তাটি নির্মাণে ধীর গতির বিষয়ে রামপাল উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ মোয়াজ্জেম হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, এ উপজেলার উন্নয়নের ব্যাপারে আমরা কোন আপোস করি না। আমাদের উন্নয়ন কাজে কেউ যদি কোন প্রকার গাফিলতি করে, তবে অবশ্যই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভাগ