বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আট প্রস্তাব

লোকসমাজ ডেস্ক॥ করোনাভাইরাস সৃষ্ট সংকট থেকে উত্তরণে সরকারকে আট দফা প্রস্তাব দিয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। মঙ্গলবার (৯ জুন) এক বিবৃতিতে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারি ব্যক্তি ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে যে গভীর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে তা কাটিয়ে ওঠাই হবে নতুন অর্থবছরের প্রধান চ্যালেঞ্জ।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আট প্রস্তাব:
১। করোনা দুর্যোগকালীন বাজেটে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, কৃষি ও গ্রামীণ খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াকে নতুন বাজেটে নীতি হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে এবং সে অনুযায়ী এসব খাত পুনর্গঠনের বিস্তারিত পরিকল্পনা ও বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
২। রাজধানী থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ‘গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থা’ গড়ে তুলতে হবে। তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, হাসপাতাল, চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রতিটি নাগরিকের চিকিৎসা সরকারি উদ্যোগ নিশ্চিত করা যায়। বেসরকারি হাসপাতালের মুনাফাকেন্দ্রিক স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। করোনা চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব সরকারকে বহন করতে হবে।
৩। কৃষি ও গ্রামীণ খাতের পুনরুজ্জীবন ও উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করতে উন্নয়ন বাজেটে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত মূল্যে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে কমপক্ষে ২০ লাখ টন ধান কিনতে হবে। এই দুর্যোগে কৃষককে ঋণ নয়, নগদ অর্থ সহায়তা দিতে হবে। কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র প্রকল্প, মৎস্য, দুগ্ধ ও পোল্ট্রি শিল্পে আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করতে হবে।
৪। স্বল্প আয়ের ২ কোটি পরিবারের জন্য আগামী ৬ মাস প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নগদ অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা বাজেট নিশ্চিত করতে হবে। একটি স্থায়ী গণবণ্টন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগামী বাজেটেই প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও বরাদ্দ পেশ করতে হবে।
৫। বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগে নগদ আর্থিক সহায়তার নীতি ও বরাদ্দ ঘোষণা করতে হবে।
৬। অনুৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দ হ্রাস করে শিক্ষা, আবাসন, শিল্পসহ উৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে।
৭। কালো টাকা, অপ্রদর্শিত আয়সহ বিদেশে পাচার করা অবৈধ অর্থ সম্পদ উদ্ধারে নীতি-কৌশল ঘোষণা করতে হবে। বিত্তবানদের ওপর বেশি কর আরোপ করতে হবে। সম্পত্তি অনুযায়ী কর ধার্য করতে হবে।
৮। পরিবহন ও বাড়ি ভাড়া এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের নীতি ঘোষণা করতে হবে।

ভাগ