তরিকুল ইসলাম, ঝিকরগাছা (যশোর) ॥ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মাটশিয়া গ্রামে এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে গর্ভপাতের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন ধর্ষিতার মাতা। পুলিশ এ ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষকের পিতাকে আটক করেছে। ধর্ষিতার মা মামলায় উল্লেখ করেছেন, তার মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ৬ মাস যাবত সে শারীরিকভাবে অসুস্থতা বোধ করছিল। গত ২৬ এপ্রিল ওই শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হলে পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী বাজারের একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ওই শিক্ষার্থী ২৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। তখন মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় গত বছরের ১৫ নভেম্বর দুপুরে বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় প্রতিবেশী ফজলে আলী দফাদারের ছেলে জয়নাল আবেদীন (৩০) তার ঘরে প্রবেশ করেন। এরপর ওড়না ও গামছা দিয়ে তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেন জয়নাল। ফলে ভয়ে ওই শিক্ষার্থী কাউকে কিছু বলেনি। পরে জয়নাল আবেদীনের পিতা-মাতা বিষয়টি জানতে পেরে ওই শিক্ষার্থীকে গত ৩০ এপ্রিল ওষুধের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটান। এর ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে শালিশি বৈঠকের কথা বলে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। অবশেষে এ ঘটনায় গত সোমবার (৮ জুন) ঝিকরগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় জয়নাল আবেদীনকে প্রধান করে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন-জয়নালের পিতা ফজলে আলী দফাদার (৫০), মাতা শাহিদা বেগম (৪৫), তার বোন ময়না খাতুন (৩৫), ভগ্নিপতি দিগদানা গ্রামের আকবর আলী খাঁর ছেলে ইশা খাঁ (৩৮), এবং সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার রহিম বক্সস গাজীর ছেলে আকবর আলী গাজী (৪৮) ও আলতাফ আলী গাজী (৩৫)। এদিকে মামলার পর বাঁকড়া পুলিশ ধর্ষক জয়নাল আবেদীনের পিতা ফজলে আলী দফাদারকে আটক করেছে। বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মিজানুর রহমান জানান, ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন ও জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।





