আদালতে স্বীকারোক্তি : চৌগাছায় পরকীয়ার কারণে খুন হন বিপুল, ৩ জনকে আটক ডিবি’র

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মায়ের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক থাকায় বিপুল হোসেনকে গরু কেনার কথা বলে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছেন ডিবি পুলিশের হাতে আটক সবুজ হোসেন। ভগ্নিপতিসহ তিনজনে মিলে তাকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ এবং হাতুড়িপেটা করে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার অন্ডকোষ টিপে গলিয়ে দেয়া হয়। যশোরের চৌগাছা উপজেলার হিজলী গ্রামের আলোচিত বিপুল হোসেন হত্যা মামলায় গতকাল রোববার আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি একথা বলেছেন। ওই হত্যা মামলায় আটক মো. তুহিন নামে আরও একজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে গত শনিবার মনিরামপুর ও চৌগাছায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সবুজ হোসেন, তার মা ফুলবানু বেগম ও মো. তুহিনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এ সময় হত্যাকা-ে ব্যবহৃত হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের এসআই শামীম হোসেন জানান, চৌগাছা উপজেলার হিজলী গ্রামের জামাল হকের ছেলে বিপুল হোসেনের বস্তাবন্দি লাশ গত ৫ জুন সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বেড়গোবিন্দপুর মুলিখালী বটতলার রাস্তার পাশের একটি ঝোঁপ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রকি আহমেদ ৪ জনকে আসামি করে চৌগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে থানা পুলিশ এ মামলা তদন্ত করলেও পরে ডিবি পুলিশকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ফলে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাবার পর হত্যাকা-ে জড়িত অপরাধীদের আটকে তারা মাঠে নেমে পড়েন। এরপর তিনিসহ ডিবি পুলিশের আইটি শাখার এসআই মফিজুল ইসলাম তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে গত শনিবার দুপুরে মনিরামপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি সবুজ হোসেনকে আটক করেন। সবুজ হোসেন হিজলী গ্রামের আবু শামার ছেলে। পরে তার স্বীকারোক্তিতে বিকেলে চৌগাছার হিজলী বাজার থেকে আটক করা হয় মো. তুহিনকে। আটক তুহিন একই গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। এছাড়া তারা সবুজ হোসেনের মা ফুলবানু বেগমকেও আটক করেন। তিনি বলেন, আটকের পর সবুজের স্বীকারোক্তিতে তার ভগ্নিপতি রফিকুল ইসলামের দক্ষিণ কয়ারপাড়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি এবং পুড়াপাড়ার একটি পাটক্ষেত থেকে নিহত বিপুল হোসেনের মোবাইল ফোন সেট উদ্ধার হয়।
ডিবি পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, আটক ৩ জনকে রোববার আদালতে সোপর্দ করা হলে এর মধ্যে সবুজ হোসেন ও তুহিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহাদী হাসান তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। তিনি বলেন, জবানবন্দিতে সবুজ আদালতে জানিয়েছেন, তার পিতা আবু শামা ১০/১২ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। অপরদিকে প্রায় ৩ বছর ধরে তার মায়ের সাথে বিপুলের পরকীয়া সম্পর্ক চলছে। এ ঘটনা তিনি জেনে যান। একদিন তিনি দু’জনকে এক সাথে দেখেও ফেলেন। এ ঘটনায় বিপুলের ওপর তার প্রচ- ক্ষোভ জন্মে। এ জন্য তিনি তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। বিষয়টি তার ভগ্নিপতি রফিকুল ইসলামকে জানালে তিনিও এ হত্যাকা-ে সায় দেন। সবুজ ও তার ভগ্নিপতি রফিকুল রড মিস্ত্রির কাজ করেন। তাদের সহকর্মী আরেক রড মিস্ত্রি তুহিনকে এ জন্য তারা সাথে নেন। এরপর গত ৩ জুন সকালে তারা মোটরসাইকেলে করে হিজলী বাজারে গিয়ে ৯০ টাকায় তিনটি বস্তা কেনেন। এছাড়া এর আগে একটি হাতুড়ি ও শাবল সংগ্রহ করে রফিকুল ইসলামের দক্ষিণ কয়ারপাড়ার বাড়িতে রেখে দেন। পরে তারা বিপুলকে ডেকে আনেন গরু কেনার কথা বলে। মোটরসাইকেলে করে তাকে এনে রফিকুলের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় রফিকুলের ইশারায় ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন সবুজ। বিপুল ঘরের ভেতর একটি খাটের ওপর বসেছিলেন। কিন্তু তিনি কোনকিছু বুঝে ওঠার আগেই রফিকুল পেছনে গিয়ে তার গলায় রশি পেঁচিয়ে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করেন। এ সময় রফিকুলের কথামত সবুজ হাতুড়ি দিয়ে বিপুলের মাথায় আঘাত করেন। পরে তারা মৃত্যু নিশ্চিত করতে বিপুলের অ-কোষ টিপে গলিয়ে দেন। এ ঘটনার পর তারা রফিকুলের ঘরে লাশটি রেখে বেরিয়ে পড়েন। পরে তারা মোটরসাইকেলে করে পুড়াপাড়ায় গিয়ে বিপুলের একটি মোবাইল ফোন সেট জনৈক ইদ্রিস আলীর পাটক্ষেতের ভেতর ফেলে দেন। এসআই শামীম হোসেন জানান, লাশটি পরে কোন একসময় রফিকুল বস্তাবন্দি করে বেড় গোবিন্দপুর মুলিখালী বটতলার পাশের ঝোঁপের ভেতর ফেলে দেন। তাকে আটক করতে পারলে এ বিষয়ে আরও তথ্য মিলতে পারে।