শ্যামনগরে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পুনর্নির্মাণ ও সুপেয় পানির দাবিতে নৌ-মানববন্ধন

শেখ আব্দুল হাকিম,শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) ॥ শ্যামনগর উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণ এবং সুপেয় পানি নিশ্চিত করার দাবিতে নৌ-মানববন্ধন শেষে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। রবিবার দুপুর ১২ টার দিকে সুন্দরবনসংলগ্ন নিলডুমুর খোলপেটুয়া নদীতে উপকূলীয় শ শ মানুষ নৌ-মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন। জেলা নাগরিক কমিটি সাতক্ষীরা, উপজেলা যুব ফোরাম শ্যামনগর, জেলা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ সাতক্ষীরা, উপজেলা জলবায়ু পরিষদ শ্যামনগর এবং গাবুরা ইউনিয়ন জলবায়ু সহনশীল শ্যামনগর নৌ-মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রায় এক-চতুর্থাংশ জনগণ উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করে। জলবায়ু পরিবর্তন, ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সুপেয় পানির সংকট, লবণাক্ততা প্রভূতির কারণে উপকূলীয় এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতি বছর জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। জাতীয় অর্থনীতিতে চিংড়ি খাত থেকে উপকূলীয় মানুষেরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় ৫৫৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ২৭ কিলেমিটার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এর আগে ঘূর্ণিঝড় আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্যামনগর উপজেলায় গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী ও কাশিমাড়ী ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের জমি ডুবেছে লোনা জলে। আজও অনেকে ফিরতে পারেনি তাদের ভিটায়। ১৯৮৮ সালের ২৯ নভেম্বর সাইকোন, ২০০৭ সালে সিডর, ২০০৯ সালে আইলায় উপকূলীয় এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পরে শ্যামনগরে ৫, ১৪ ও ১৫ নং পোল্ডারে ১৯২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ১৩ কিলোমিটারে ২৫ টি স্থানে ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম আতাউল হক দোলন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খালেদা আইয়ুব ডলি, জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি মো. আনিছুর রহিম, উপজেলা যুব ফোরামের সভাপতি মোমিনুল ইসলাম, উপজেলা জলবায়ু পরিষদের সভাপতি আশেক-ই-এলাহীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী ও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

ভাগ