যশোরে এক সপ্তাহে সহিংসতায় শতাধিক নারী-পুরুষ আহত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ করোনা মহামারীর মধ্যে যশোরে বৃদ্ধি পেয়েছে পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সহিংসতা। গত এক সপ্তাহে এসব সহিংসতায় শতাধিক নারী-পুরুষ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে। গত ২২ মে হতে ২৯ মে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সহিংসতায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১শ’ ৫ জন। এর ভেতর গতকাল (২৯ মে) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত পৌনে ৫ ঘন্টায় সহিংসতায় আহত হয়েছেন ১২ জন। আহতদের মধ্যে ৭ জন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগের দিন ২৮ মে সহিংসতায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ১৩ জন।
আহতদের সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা ১১টায় যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া বেলতলায় সন্ত্রাসীরা সোহেল দফাদার (২৮) নামে এক যুবককে ভ্যান থেকে নামিয়ে নিয়ে মারপিট করে। সোহেল দফাদার নরেন্দ্রপুরের মফিজ দফাদারের পুত্র। বাড়ি থেকে ভ্যানযোগে রূপদিয়া বাজারে যাওয়ার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সোহেল দফাদার জানিয়েছেন, এ সময় তার কাছে নগদ ৪৫ হাজার টাকা ও বিদ্যুৎ বিল ছিল। তার ওপর হামলাকারী একই গ্রামের লিটু, রানা, রিপন ও আনারুলসহ ১২/১৩ জন ওই টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। আহত সোহেল যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। একইদিন সকাল ৮টার দিকে সদর উপজেলার রাজাপুরে বাঁশ কাটা নিয়ে দু’পক্ষ সহিংসতায় লিপ্ত হন। এ সহিংসতায় ৫ জন আহত হয়েছেন। এরা হচ্ছেন- শমছের আলী মোল্যা (৭০), তার দু’ছেলে আকছার আলী (৪৫), আসমাউল (৩৫), নেছার আলীর দু’কন্যা মিতু (১৬), রেশমা (৩৫)। এছাড়া চৌগাছা উপজেলার মাজালী গ্রামের সামজউদ্দিনের কন্যা পিংকী (১৭), বুড়িন্দিয়া গ্রামের কবির হোসেন (২৭), তার স্ত্রী শিলা বেগম (২০), ঝিকরগাছা উপজেলার চান্দা গ্রামের নুরুজ্জামান (২৬), মোরশেদ আলীর স্ত্রী নূরজাহান (৫০), সদর উপজেলার আব্দুলপুরের আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী খাদিজা (২২), কাশিমপুরের সঞ্জয় কুমারের স্ত্রী রিনা রাণী (৩৫) একইদিন সহিংসতায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর আগের দিন সহিংসতায় আহত হয় ১৩ জন। আর ২২ মে হতে গতকাল পর্যন্ত এক সপ্তাহে আহতদের সংখ্যা ১শ’ ৫ জন। এ সময়ের মধ্যে চৌগাছা উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের কিলার শামীম তার প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হন। এ ঘটনার নায়ক চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য জসীম বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন সন্ধ্যায় মাগুরার শালিখা উপজেলার মনোখালী গ্রামের ইসলাম মোল্যাকে (৪০) সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আবির, বুলবুলি ও হাবিবুর রহমান নামে ৩ সন্ত্রাসী তার সমস্ত শরীরে এলোপাতাড়ি কোপায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একের পর এক সহিংসতার ঘটনা নিয়ে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত ডা. দেলোয়ার হোসেনের সাথে কথা হয়। এ সময় তিনি বলেন, করোনা মহামারীর মধ্যে হাসপাতালে জরুরি বিভাগ যখন ব্যস্ত তখন এক শ্রেণির মানুষ নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে। আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে।

ভাগ