স্টাফ রিপোর্টার, মনিরামপুর (যশোর) ॥ যশোর মনিরামপুরের পল্লীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত লম্পট জাহিদ হাসানকে আটক করেছে পুলিশ। সে হরিহরনগর ইউনিয়নের দশআনী গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে। মনিরামপুর থানা পুলিশের এসআই আবদুর রহমান জানান, দশআনী গ্রামের এক কিশোরী মেয়ে গত ৬ মে সন্ধ্যার পর বাড়ির পাশে টিউবয়েলে পানি আনতে যায়। পথিমধ্যে একই গ্রামের মুজিবুর রহামনের ছেলে রাজমিস্ত্রীর সহকারি লম্পট জাহিদ হাসান ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধরে পার্শ্ববর্তী নূর মোহাম্মাদের পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে ওই কিশোরী বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের কাছে ঘটনা জানায়। কিশোরীর মা জানান, বিষয়টি জানাজানি হলে ধর্ষক জাহিদ হাসানের পিতা ও তার চাচা আবুল হোসেন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। তারা কিশোরীর মাকে ম্যানেজ করতে মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দেখান। কিন্তু তিনি রাজি না হওয়ায় লম্পট জাহিদের পিতা আবুল হোসেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান, গোলাম রসুল, একজন ইউপি সদস্যসহ কতিপয় ব্যক্তির স্মরণাপন্ন হন। কিন্তু তারাও ব্যর্থ হওয়ায় মীমাংশার উদ্যোগ ভন্ডুল হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার জানান, ধর্ষণের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে জাহিদ ও তার অভিভাবকরা ব্যর্থ হয়েছে। তবে মীমাংশার উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান অস্বীকার করেন। হরিহরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। মনিরামপুর থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান জানান, ধর্ষণের ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে ওই কিশোরীর মা লম্পট জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাতেই জাহিদ হাসানকে আটক করা হয়। বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে অসুস্থ ওই কিশোরীকে উদ্ধারের পর যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দু’একের মধ্যে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।




